অক্সফোর্ডে প্রতিবাদ করে কি লাভ হল? SFI-এর বিক্ষোভ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বামেরাই?
হিন্দুস্তান টাইমস | ৩০ মার্চ ২০২৫
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, লন্ডনে তাঁর বক্তৃতা ভণ্ডুল করে দেওয়ার জন্য নাকি বামেদের একাংশ ও গেরুয়া শিবির ষড়যন্ত্র করছে! বাস্তবে সেই বক্তৃতা পুরোপুরি ভণ্ডুল না হলেও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে মমতা যখন বক্তৃতা করছেন, সেই সময় বিশৃঙ্খলা একটা হল বটে। কিন্তু, দুঁদে রাজনীতিক মমতা, বয়সে তরুণ প্রতিবাদীদের তোলা একগুচ্ছ প্রশ্নের জবাব দিলেন যথাসম্ভব শান্ত ভঙ্গিতে!
ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে বাংলায় প্রতিবাদ, আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে সিপিআই-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআই। কিন্তু, প্রশ্ন হল - এই কেলগ পর্বে আদৌ কি বামেদের বিরাট কোনও রাজনৈতিক লাভ হল?
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেলগের গোলমাল নিয়ে সিপিআই-এর অন্দরেই মতভেদ রয়েছে। নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনায় আদতে মমতার কর্মসূচিই আরও বেশি করে প্রচারের আলোয় উঠে এসেছে।
যদিও অন্য পক্ষ আবার বলছে, বর্তমানে বাংলা তথা দেশের রাজনীতি কেবলমাত্র সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। যা সুস্থ গণতন্ত্রের পক্ষে মোটেও ইতিবাচক নয়। সেই জায়গায় লন্ডনে এসএফআই-এর স্থানীয় প্রতিনিধিরা সংখ্য়ায় অল্প হলেও আরজি কর কাণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, যার সঙ্গে সরাসরি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা জড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এটা সামগ্রিকভাবে রাজনীতির পক্ষে ভালো।
বস্তুত, একথা ঠিক যে মমতার লন্ডন সফরে বাংলায় 'আক্রান্ত' হিন্দুদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিব্রত করার পরিকল্পনা করেছিল হিন্দুত্ববাদীরাও। কিন্তু, তাদের সেই 'উদ্যোগ' সেভাবে ফলপ্রসূ হয়নি। কারণ, ততক্ষণে বামেদের 'প্রতিবাদ' লাইমলাইটে চলে এসেছে। এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসও বামেদের এই 'বিশৃঙ্খলা' নিয়ে সুর চড়ালেও হিন্দুত্ববাদীদের প্রচেষ্টাকে এখনও পর্যন্ত অন্তত তেমন পাত্তা দেয়নি!
কিন্তু, এত কিছুর পরও সিপিআই নেতৃত্বের একাংশ বলছেন, এই ঘটনায় ২০১৩ সালের দিল্লির ঘটনার ছায়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে! উল্লেখ্য, কলকাতায় আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছিল এসএফআই নেতা সুদীপ্ত গুপ্তকে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে ২০১৩ সালে দিল্লিতে রাজ্যের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে ঘিরে বেনজির প্রতিবাদ করেছিল এসএফআই।
সেই ঘটনাকে 'হেনস্থা' বলে চিহ্নিত করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাতারাতি বাংলায় সিপিআই নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য ছিল - এসএফআই শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের খেসারত দিতে হয়েছে দলের সাধারণ কর্মীদের।
এমনকী, সেই ঘটনার জেরে পরবর্তীতে নজরুল মঞ্চে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে এসএফআই নেতৃত্বের তরফে প্রতিবাদের নামে 'বাড়াবাড়ি' করার জন্য দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করতে দেখা গিয়েছিল!
কেলগের ঘটনার পর সিপিআই নেতৃত্বেরই একাংশ বলছে, গণতন্ত্রে বিরুদ্ধ মত শোনা ও তাকে সম্মান করাটাই কাঙ্ক্ষিত। সেখানে বিদেশের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ঢুকে প্রতিবাদের নামে নামমাত্র স্বর উঁচিয়ে কী লাভ হল? বরং, আরও সংগঠিতভাবে কেলগের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা যেতে পারত। তবে, এর ভিন্ন মতও রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এসএফআই-এর এই প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন আরজি কর কাণ্ডে নিহত তরুণীর বাবা-মাও।
অন্যদিকে, এই ঘটনার রেশ জিইয়ে রাখতে রাজ্যে এক সপ্তাহের প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার সুবিচারের দাবিতে প্রচার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসএফআই। পাশাপাশি, ছাত্র নেতা সুদীপ্ত গুপ্তের মৃত্যুদিন - আগামী ২ এপ্রিল কলকাতায় জোড়া মিছিলেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে এসএফআই-এর এই সমস্ত কর্মসূচির পাশে থাকছে সিপিআইও।