• ২৬-এ ‘লক্ষ্মীর আশীর্বাদ’ অটুট রাখতে আসরে মহিলা তৃণমূল, আসছে নতুন পাঁচ কর্মসূচি!
    হিন্দুস্তান টাইমস | ৩০ মার্চ ২০২৫
  • সালটা ছিল ২০২১। দরজায় কড়া নাড়ছিল বিধানসভা নির্বাচন। সেই আবহেই 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডর' প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মমতার ওই পদক্ষেপ ছিল 'মাস্টার স্ট্রোক'! যেখানে অভিজ্ঞ মহলের একটা অংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল, আদৌ একুশের নির্বাচনী বৈতরণী মমতার দল সাফল্যের সঙ্গে পার করতে পারবে কিনা, সেখানে এই একটি মাত্র ঘোষণাই 'খেলা'র রাশ মমতার হাতে তুলে দিয়েছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    কিন্তু, সেই ঘটনার পর ইতিমধ্য়েই চারবছর কেটে গিয়েছে। বছর ঘুরলে ফের ভোট হবে বাংলায়। ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প সংস্কার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে মাসিক আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ। তাহলে এবারও কি সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভর করেই ভোটের ময়দানে ঝাঁপাবে তৃণমূল কংগ্রেস?

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলা ভোট যে তৃণমূলের অন্যতম শক্তি, সেটা ভালোই বোঝে নেতৃত্ব। আর সেই কারণেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে দলের তরফে। যার সবক'টিই মহিলাকেন্দ্রিক।

    ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে হাতে এখনও বছর খানেক সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই এই নয়া কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে রাজ্যের 'লক্ষ্মী'দের আরও কাছে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করবে শাসকদল। এর জন্য মাঠে নামানো হবে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসকে। ইতিমধ্য়েই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল ভবনে জরুরি বৈঠক সেরেছেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তথা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ৩৫টি সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী এবং রাজ্য তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস কমিটির শীর্ষ নেত্রীরা।

    নতুন পাঁচটি কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হল - 'অঞ্চলে আঁচল', 'তোমার ঠিকানা, উন্নয়নের নিশানা'। এর মধ্যে প্রথমটি শুরু হবে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই কর্মসূচির অধীনে দেড় মাস ধরে রাজ্যের ৩৪৫টি ব্লক এবং ১২৭টি পুর এলাকায় সভা করা হবে। অন্যদিকে, কলকাতা পুরনিগম এলাকার মধ্য়ে ওয়ার্ডভিত্তিক সভা করা হবে। এর মধ্য়ে উত্তর কলকাতায় আটটি এবং দক্ষিণ কলকাতায় ১২টি সভা হবে।

    তৃণমূলের বক্তব্য, এই সভাগুলিতে মহিলারা একসঙ্গে 'আঁচল পেতে' বসবেন। তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন দলের নেত্রীরা। মহিলাদের সমস্ত অভাব, অভিযোগ, পরামর্শ সেই সভায় শোনা হবে। এবং একইসঙ্গে তৃণমূল নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলি সম্পর্কে এলাকার মহিলাদের অবগত করা হবে।

    এরপর, আগামী ১৬ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে 'তোমার ঠিকানা, উন্নয়নের নিশানা' কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় এলাকার নারীদের মধ্যে 'দিদি মহিলাদের সাথে, মহিলাদের পাশে' - এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই বিষয়ে লিফলেট বা প্রচারপত্র বিলি করা হবে। যা প্রত্যেকটি বুথ এলাকার অন্তত ২৫০ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তৃণমূলের স্থানীয় নেত্রীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই লিফলেট বিলি করবেন। মহিলাদের সঙ্গে কথাও বলবেন।

    এরই পাশাপাশি, আগামী পয়লা বৈশাখ 'এস হে বৈশাখ' কর্মসূচি পালন করবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা সামিল হবেন 'শঙ্খযাত্রা' পদযাত্রায়। গিরিশ পার্ক থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত এই পদযাত্রা করা হবে। যার মূল লক্ষ্য বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা।

    এরপর আগামী ১ জুলাই পালিত হবে 'রক্তবন্ধন' কর্মসূচি। যার লক্ষ্য হল - রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে অন্তত ২ হাজার ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ১ জুলাই দিনটি পালিত হয় চিকিৎসক দিবস হিসাবে।
  • Link to this news (হিন্দুস্তান টাইমস)