মাঝ চৈত্রেই সূর্যের চোখরাঙানিতে হাসফাঁস অবস্থা রাজ্যে। মার্চ মাস শেষ হওয়ার আগেই যেভাবে গরম পড়েছে তাতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। তাই খুদে পড়ুয়াদের কথা ভেবে স্কুলের সময়সূচি বদলের চিন্তাভাবনা করছে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এবিষয়ে শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের থেকে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
সাধারণত বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় চলে ডে সেশনে। ফলে গরমের কারণে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে সমস্যা হচ্ছে। সেই কথা ভেবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ স্কুলগুলির কাছে জানতে চেয়েছে পঠনপাঠনের সময়সূচি সকালের দিকে এগিয়ে আনা প্রয়োজন কি না? তা এই সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলার ডিপিএসসি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্ট পেলে পাঠানো হবে স্কুল শিক্ষা দফতরকে। তারাই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
পর্ষদ সূত্রে জানা যাচ্ছে, মূলত ছাত্রছাত্রীদের তীব্র গরমের হাত থেকে রক্ষা করা এবং তাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পঠনপাঠনের সময়সূচি এগিয়ে আনার কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই শিক্ষা দফতর পড়ুয়াদের ২০২৫ সালের জন্য গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে। মাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাড়ানো হয়েছে। যদিও প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য খুব বেশি বাড়ানো হয়নি। তবে প্রাথমিক স্তরেও গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ ছুটি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ২০২৪ সালে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ছিল ১০ দিন। এবছর তা একদিন বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বসন্ত শেষ হতেই পারদ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। রাজ্যের বেশকিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, দমদম সহ আটটি জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা তার বেশি ছিল। এছাড়াও, হাওয়া অফিসের তরফে পশ্চিমের কয়েকটি জেলায় তাপপ্রবাহের সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সেই কারণে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের স্কুলের সময়সূচি সকালের দিকে এগিয়ে আনার কথা ভাবছে শিক্ষা পর্ষদ।