পিয়ালী মিত্র: পাটুলিতে বৃদ্ধা খুনের কিনারা। গ্রেফতার করা হল ছেলেকে। ৪ দিন পর থানায় এসে নিজেই আত্মসমপর্ণ করলেন তিনি। কী কারণে খুন? খতিয়ে দেখছে পুলিস।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। সেদিন পাটুলি থানা এলাকার বিদ্যাসাগর কলোনির একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় বৃদ্ধার অগ্নিদগ্ধ দেহ। নাম, মালবিকা মৈত্র। ২০২২ সাল থেকে ওই আবাসনে ভাড়া থাকতেন বছর বাহাত্তরের এক বৃদ্ধা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে খুনের দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই বৃদ্ধার সঙ্গেই থাকতেন তাঁর ছেলে অভিষেক। ব্যাংকে কাজ করেন তিনি। কিন্তু যেদিন মায়ের দেহ উদ্ধার হয়, সেদিন থেকে বেপাত্তা ছিলেন তিনি। অবশেষে আজ, বুধবার থানায় এসে আত্মসমপর্ণ করেন অভিষেক। মেডিক্যাল পরীক্ষার পর, তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিস। আগামীকাল, সোমবার আদালতে পেশ করা হবে ধৃতকে।
এদিকে এই ঘটনার হতবাক প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, মা-কে প্রচন্ড ভালোবাসতেন অভিষেক। মায়ের যাবতীয় দেখাশোনা থেকে ঘরের সমস্ত কাজকর্ম করতেন নিজের হাতেই। কিন্তু আর পেরে উঠছিলেন না তিনি। সেকারণেই কি খুন? খতিয়ে দেখছে পুলিস। সূত্রের খবর, মায়ের অ্যাকাউন্ট টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলারও চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু পুলিসের তত্পরতায় শেষপর্যন্ত সেই টাকা পাননি।
পাটুলি থানা এলাকার বিদ্যাসাগর কলোনির যে ঘরে মা-ছেলে ভাড়া ছিলেন, সেই ঘরের প্রতি মাসে ভাড়া ৮৫০০ টাকা। এছাড়া মেইনটেন্যান্স চার্জ ২০০ টাকা। এক প্রতিবেশী জানান, অভিষেককে দেখতে একদম সাদামাটা। কথায় কথায় 'জয় জগন্নাথ' বলতেন। বলতেন, জগন্নাথদেব তাঁকে ডাকছে! মাঝে-সাঝেই অভিষেককে বলতে শোনা যেত, তিনি পুরী যাবেন জগন্নাথ দেবের দর্শন করতে।