বিক্রম দাস: এবার কি রক্ষকের উপর থেকেও ভরসা উঠে যাবে মানুষের ? এই প্রশ্নই করছেন সাধারণ মানুষ। কিছুদিন আগেই ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সেজে ২৫ ভরি সোনা, ৩ লক্ষ টাকা লুঠের অভিযোগে এবার গ্রেফতার ৫ সিআইএসএফ (CISF) কর্মী-সহ ৮ জন! এবার কাঠগড়ায় ভুয়ো সিবিআই (CBI) অফিসার। জানা গিয়েছে, ২৭ মার্চ পোস্তা থানার অন্তর্গত এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে সিবিআই পরিচয়ে কিছু লোক আসে।
পুলিস সূত্রে জানা যায়, পোস্তা এলাকার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ২৭ মার্চ নিজের দোকানেই ছিলেন। তখন তিন থেকে চারজন নিজেদের সিবিআই অফিসার বলে দোকানে প্রবেশ করেন। সেই মুহূর্তে ওই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর কাছ থেকে মোট ৪০০ গ্রাম সোনা নিয়ে চম্পট দেই। যার বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা।
ওই ব্যবসায়ীর সন্দেহজনক মনে হওয়াই শনিবার পোস্তা থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। তারপর পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ঠিক একইভাবে সিআইএসএফ সেজে একদল প্রতারক ২৫ ভরি সোনা এবং ৩ লক্ষ টাকা লুঠ করেছিল।
জানা গিয়েছিল, চিনার পার্কে একটি আবাসনে স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে থাকতেন আরপি সিং নামে এক ব্য়ক্তি। পেশায় তিনি ছিলেন প্রোমোটার। কয়েক বছর আগে প্রয়াত হন আরপি সিং। অভিযোগ, গত ১৭ মার্চ ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সেজে হানা দেয় বেশ কয়েকজন। ২৫ ভরি সোনা ও নগদ ৩০ লক্ষ টাকা লুঠ করে নিয়ে যান তাঁরা। বাগুইহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রয়াত প্রোমোটারের স্ত্রী।
তদন্তে মেনে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে। এরপর প্রথমে কলকাতা থেকে দুই জন ও পরে ফরাক্কা থেকে CISF-র ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার অমিত কুমার সিংকে গ্রেফতার করে পুলিস। ধরা পড়ে আরও ২ CISF কর্মী-সহ মোট ৭ জন। পুলিস সূত্রে খবর, এখনও বেশ কয়েকজন অধরা। একই মাসে দুটি বড় বড় ঘটনা এর নেপথ্যে কি বড় কোনও চক্র? খতিয়ে দেখছে পুলিস।