যক্ষ্মা নির্ণয়ে রাজ্যে প্রথম দক্ষিণ দিনাজপুর, সচেতনতায় জোর
আনন্দবাজার | ৩০ মার্চ ২০২৫
সারা ভারত জুড়ে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের বিশেষ কর্মসূচিতে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মিশনের তরফে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় শুভেচ্ছাবার্তাও পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর। এই বিশেষ সমীক্ষায় আরও ৭০৩ জনের যক্ষ্মা ধরা পড়েছে জেলায়। তবে স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন করে যক্ষ্মা ধরা পড়া রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং সচেতনতার প্রচারও বাড়ানো হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে এ বছর ২৪ মার্চ পর্যন্ত ওই সমীক্ষা করা হয়। একশো দিনের ওই বিশেষ কর্মসূচিতে তিন লক্ষ ৭৭ হাজার মানুষের মধ্যে সমীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু জেলা স্বাস্থ্য দফতর তার চেয়ে অন্তত এক লক্ষ বেশি মানুষের সমীক্ষার পরে প্রায় ২৫ হাজার উপসর্গ থাকা রোগীর সরাসরি নমুনা যাচাই করে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, ‘‘যত বেশি রোগ নির্ণয় হবে, তত তা নির্মূল করা যাবে। যক্ষামুক্ত বাংলার লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রথম থেকেই সক্রিয়।’’
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, আগে থেকেই জেলায় অন্তত আড়াই হাজার যক্ষা রোগী রয়েছেন। সেই সংখ্যা বাড়ল। এই সব রোগীর চিকিৎসা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিকাঠামো জেলায় রয়েছে তো? জেলা প্রশাসন সূত্রে দাবি, নতুন রোগীদের ইতিমধ্যেই চিকিৎসার আওতায় আনা গিয়েছে। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ বলেন, ‘‘পরিকাঠামো যথাযথ রয়েছে। নতুন করে রোগ নির্ণয়ের পরে রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’’
জানা গিয়েছে, আরও অনেক জেলাই ১০০ শতাংশের বেশি নমুনা যাচাই করেছে। তবে এগিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর। এই জেলায় ১৩০ শতাংশ নমুনা যাচাই হয়েছে। যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিলি, বালুরঘাটে জেলা হাসপাতাল এবং গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে দু’টো পৃথক যক্ষ্মা বিভাগ ছাড়াও টেলিমেডিসিনে পরিষেবা মেলে। বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, আনুষঙ্গিক পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবারের জন্য রোগীদের ছ’হাজার টাকা করেও দেওয়া হয় বলে জানান আধিকারিকেরা।