এক বছরে ৪৭টি প্রকল্পে বরাদ্দ সাড়ে ৩৬৯ কোটি, কাজে ঝাঁপিয়েছে পুরসভা
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাস্তা ও নিকাশি-নালা নির্মাণ থেকে স্টেডিয়াম সংস্কার। নদী সংস্কার থেকে বাঁধ মেরামতি। কলেজ ভবন থেকে দমকল কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ। এমনকী, ভূতলে বিদ্যুতের তার পাতা। এক বছরে এমন ৪৭টি প্রকল্পের জন্য শিলিগুড়ি শহরে বরাদ্দের পরিমাণ ৩৬৯ কোটি ৪৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৯১ টাকা। যা পূর্ত, সেচ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে বরাদ্দ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করতে ঝাঁপিয়েছেন মেয়র গৌতম দেব। তিনি নিয়মিত প্রকল্পগুলির নির্মাণ কাজ তদারকি করছেন। এবার তিনি নতুন ৩৯টি প্রকল্পের জন্য আরও ২৮ কোটি টাকা চেয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে।
শিলিগুড়ি শহরের উন্নয়ন নিয়ে তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড। বিগত দু’টি আর্থিকবছরের মতো এবারও তারা শহরের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করেছে। পুরসভা সূত্রের খবর, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে শহরের উন্নয়নে হাতে নেওয়া হয় ৪৭টি প্রকল্প। তালিকায় নিকাশি-নালার গার্ডওয়াল তৈরি, পেভার ব্লক রাস্তা, বিটুমিনার্স রাস্তা, কলেজের প্রশাসনিক ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, দমকল বিভাগের ভবন সংস্কার, নদীবাঁধ তৈরি, ওভারহেড বিদ্যুতের তার মাটির নীচ দিয়ে পাতা প্রভৃতি প্রকল্প রয়েছে। এজন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৩৬৯ কোটি ৪৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৯১টাকা।
নিয়মিত পূর্ত, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও সেচদপ্তর, বিদ্যুৎবণ্টন কোম্পানির আধিকারিকদের নিয়ে প্রকল্পগুলির কাজকর্ম পর্যালোচনা করছেন মেয়র। তিনি মাঝেমধ্যেই নির্মাণ স্থলগুলি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অনুমোদিত সিংহভাগ প্রকল্পের নির্মাণ চলছে। ইতিমধ্যে কিছু প্রকল্পের নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিছু শেষ হওয়ার মুখে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির নির্মাণ কাজের গতি নিয়মিত তদারকি করছি। পাশাপাশি, আগামী অর্থবর্ষে ৩৯টি প্রকল্পের জন্য ২৮ কোটি ৩৩ হাজার ৮৫ টাকা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে চাওয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র।
আর মাত্র দু’দিন পরই শেষ হবে চলতি আর্থিক বছর। এই অবস্থায় ওই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, ওই ৪৭টি প্রকল্পের মধ্যে পূর্তদপ্তরের ১৫টি। এজন্য তারা বরাদ্দ করেছে ৮৮ কোটি ৬৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ২১১ টাকা। সেচদপ্তর ১৩টি প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি ২১ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে ৮টি প্রকল্পে ১৪ কোটি ৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬৮০ টাকা এবং এসজেডিএ’র হাতে রয়েছে ৮ কোটি ৫২ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার কাজ। বিদ্যুৎবণ্টন কোম্পানি করছে ২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির মধ্যে নির্মাণ শেষ হয়েছে ১৩টির। তাতে ব্যায় হয়েছে ১২ কোটি ২৫ হাজার ৮৭০ টাকা। বর্তমানে নির্মীয়মাণ প্রকল্পের সংখ্যা ২০টি। যারমধ্যে ৫০ থেকে ৮৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ছ’টি প্রকল্পের। ছ’টি প্রকল্প টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়ায় এবং একটির টেন্ডার ডাকা হয়েছে। আর পরিবহণ নগরে বাসস্ট্যান্ড তৈরির প্রকল্প অনুমোদনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, অর্থ বছর শেষ হতে চললেও এখনও শেষ হয়নি ৩৫৭ কোটি ৪৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ২১ টাকার প্রকল্প। এনিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন। তাঁর অভিযোগ, ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচুর টাকার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারছে না পুরসভা।