ভাঙা মাটির বাড়িতে থেকেও স্কুলের জন্য জমিদান মজুরের
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৫
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: নিতুড়িয়া ব্লকের দীঘা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিন্দুইডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা খোলা আকাশের নীচে মিড-ডে মিলের খাবার খেত। বিষয়টি বিন্দুইডি গ্রামের দিন মজুর ঝুকু বাউরির ভালো লাগেনি। খোলা আকাশের নীচে কেন পড়ুয়ারা মিড-ডে মিল খায়, তা নিয়ে একদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, জায়গার অভাব থাকায় ডাইনিং শেড তৈরি করা যাচ্ছে না। অসুবিধার কথা জানার পরেই কোনও কিছু না ভেবে ঝুকুবাবু বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পৈতৃক ভিটের সাড়ে তিন ডেসিমল জমি তিনি দান করেন। সেই জমির উপর বিদ্যালয়ের ডাইনিং শেড গড়ে ওঠে। কিন্তু, বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা ঝুকুবাবু আজও নিজে থাকেন একটি মাটির ঘরে। চালার টালি ভেঙে গেলেও অর্থের অভাবে তা পরিবর্তন করতে পারেননি। ফলে বর্ষা এলে ত্রিপল টাঙিয়ে কোনওরকম বসবাস করেন বছর সত্তরের ওই বৃদ্ধ। নিজের থাকার বাড়ি না থাকলেও বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেওয়ার মতো ‘মহৎ’ কাজকে স্থানীয় বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মহৎ কাজকে কুর্নিশ জানিয়ে শনিবার বাঁকুড়া জেলার একটি মেডিক্যাল সংগঠনের তরফে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা চান, আবাস যোজনায় ঝুকুবাবুকে পাকা বাড়ি করে দিক সরকার।
রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক বিবেক পঙ্কজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিষয়টি দেখছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে বছর ৭০-র ঝুকুবাবু মাটির বাড়িটি তৈরি করেছেন। বর্তমানে সেই বাড়িতে স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে বসবাস করেন। বয়সের কারণে এখন আর দিন মজুরের কাজে যেতে পারেন না। ছেলে দিন মজুরের কাজ করেন। সেই রোজগারে সংসার চলে। এছাড়া রাজ্য সরকারের দেওয়া রেশনের চাল আর বার্ধক্য ভাতার এক হাজার টাকা তাঁদের জীবনের সম্বল। স্ত্রীর বয়স হওয়ায় চোখে ভালো দেখতে পান না। একটি মাত্র বাড়ি। সেটিও ভগ্ন অবস্থায় রয়েছে। দুর্দশায় দিন কাটালেও আবাস যোজনায় নাম আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারের অন্তত এই সমস্ত মানুষকে দেখা দরকার। যাঁরা সমাজের জন্য নিজের সম্পদ দান করতে পারেন, তাঁদের জন্য সরকার তো একটি ঘরের ব্যবস্থা করতেই পারে। স্থানীয় বাসিন্দা নবনী চক্রবর্তী, অমল বাউরি বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি রাখব যাতে ঝুকুবাবুর একটি বাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
ঝুকুবাবু বলেন, ছোট ছোট বাচ্চারা খোলা আকাশের নীচে খাবার খেত। রোদে, বৃষ্টিতে খাবার খেতে বাচ্চাদের বড্ড কষ্ট হতো। তাই চুপ থাকতে পারিনি। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ের পাশে সাড়ে তিন ডেসিমল জমি দান করে দিয়েছি। নিজের ভাঙা বাড়ি। থাকার অসুবিধা রয়েছে। একটা বাড়ি পেলে তো খুবই ভালো হয়। -নিজস্ব চিত্র