নাড়া পোড়ানো নিয়ে প্রচারে কাজ হয়নি, এক সপ্তাহে পুড়ে নষ্ট ৭০ বিঘা জমির গম
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: লাগাতার সচেতনতামূলক প্রচারেও কোনও কাজ হচ্ছে না। বন্ধ করা যাচ্ছে না নাড়া পোড়ানো। তার জেরেই পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে প্রায় ৭০ বিঘা জমি। বিগত এক সপ্তাহে চাপড়া ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় নাড়া পোড়ানোর আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিপুল পরিমাণ গমের জমিতে। শুধু তাই নয়, নাড়া পোড়ানোর আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছেন এক চাষিও। মূলত সচেতনতার অভাবেই এই ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ঈদের আগে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় হতে পড়েছে অনেক চাষির।
চাপড়া ব্লকের কৃষি আধিকারিক অভিজিৎ সাহা বলেন, নাড়া পোড়ানো নিয়ে চাষিদের নানাভাবে সচেতন করানো হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মাইকিংয়ের মাধ্যমেও তাঁদের বোঝানো হয়। নাড়া পোড়ানোর আগুনে ছড়িয়ে পড়ার কারণেই অন্য জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি কতজন চাষি এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রসঙ্গত নাড়া পোড়ানো আইনত অপরাধ। কিন্তু সেই আইনকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চাপড়া ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় নাড়া পোড়ানো হচ্ছে। যদিও নাড়া পোড়ানোর অপরাধে জেল ও জরিমানা দুটোই হতে পারে। এই নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে কৃষকদের সচেতনতার পাঠ দিয়ে চলেছে প্রশাসন। কিন্তু সেই নির্দেশিকাকেই বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে।
গত শনিবার চাপড়া ব্লকের বানিয়াকুরি এলাকায় ৪০ বিঘা গমের জমি পুড়ে গিয়েছিল। তার ঠিক কয়েকদিন আগে চাপড়া ব্লকের ডোমপুকুর এলাকায় ২০ বিঘা গমের জমি পুড়ে যায়। মূলত নাড়া পোড়ানোর আগুন ছড়িয়ে পড়তেই এই বিপত্তি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। গত ২৬ মার্চ মাঠে নাড়া পোড়াতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ের। ঘটনাটি ঘটে চাপড়া থানার অন্তর্গত খ্রিস্টান পাড়া এলাকায়। মৃতের নাম ছিল দিলীপ বিশ্বাস (৬৫)। তখনও প্রায় ৮ বিঘা জমিতে আগুন লেগে গিয়েছিল।
এক চাষি বারিক মণ্ডল বলেন, ঈদের পর ফসল কাটার পরিকল্পনা ছিল। সব ফসল পুড়ে গিয়েছে। ধার দেনা করে চাষ করেছিলাম। সরকার যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে উপকার হয়। কৃষি বিশেষজ্ঞদের কথায়, গম চাষের পর অধিকাংশ চাষিই জমিতে নাড়া পোড়াচ্ছেন। কারণ তাঁরা সেই জমিতে পাট চাষ করবেন। তাই দ্রুত জমি খালি করার জন্য অবশিষ্টাংশে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে সেই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়েছে অন্য জমিতে। সেই জমির ফসল তখনও কাটা হয়নি। তার ফলে জমির ফসলে আগুন লেগে যাচ্ছে। এই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে কৃষি আধিকারিকদের।