• বাংলা দখলে বিদ্বেষের মডেলই অস্ত্র বিজেপির, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে গুজব, গোয়েন্দা রিপোর্ট
    বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত করতে উত্তরপ্রদেশে বিভাজন আর মেরুকরণের চেষ্টা করে সফল হয়েছিল পদ্মপার্টি। এবার বাংলা দখলে সেই মডেলই প্রয়োগ করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে গোপন অ্যাজেন্ডা রূপায়ণ করার চেষ্টা চলছে। যার প্রথম টার্গেট মুর্শিদাবাদ ও মালদা। এই দুই জেলায় অশান্তি বাঁধিয়ে সেই আগুন গোটা রাজ‍্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দারা জেনেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো প্রোফাইল খুলে বিষ ছড়ানো হচ্ছে। জেলার বাইরে থেকে এই দুই জেলার যুবকদের উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। আবার ভিন রাজ‍্য থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই বাংলাকে অশান্ত করার চক্রান্ত চলছে। যার ফলস্বরূপ একের পর এক ঘটনায় সম্প্রীতির সুতোয় টান লাগছে সীমান্তবর্তী এই দুই জেলায়। 

    মুর্শিদাবাদ ও মালদা এই দুই জেলাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তাই এই দুই জেলাতেই সাম্প্রদায়িক উস্কানি বেশি দেওয়া হচ্ছে। তাতে সংখ্যালঘুদের ভাবাবেগে আঘাত লাগছে। প্ররোচনায় পা দিয়ে পথে নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখালেই বিজেপি ও আরএসএসের উদ্দেশ্য সফল। সেইসব বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিওকে এডিট করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে গোটা বিশ্বে। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্য সরকারকে দায়ী করে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপির নেতারা। পুলিসের আপ্রাণ চেষ্টায় উপদ্রুত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার দুই-একদিন পরেই বিজেপি নেতারা এলাকায় ঢুকে ফের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা, শক্তিপুর, নওদা থেকে মালদার মোথাবাড়ি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই একই মডেল। প্রতিটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার পরই পুলিস অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। শনিবারও নওদার ঘটনার পরই পুলিস মূল অভিযুক্ত সহ ছ’ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

    যদিও বিজেপি নেতাদের দাবি, পুলিস সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বহরমপুরের বিজেপি সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, বিজেপি মেরুকরণের রাজনীতি করে না। তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী ও মেয়রদের কথা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কারা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এই রাজ্যে যত জঙ্গি ধরা পড়ছে সবাই মুসলিম। বাইরের পুলিস এসে তাদের ধরছে। তবে সকল মুসলিম জঙ্গি নয়। মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে আরও বড় সাম্প্রদায়িক সমস্যা হবে। এগুলি কারা করছে সেটা তো পুলিস প্রশাসন ভালো জানে। 

    কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী অবশ্য বলেন, যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে তার পিছনে রয়েছে তৃণমূলের আইপ্যাক নামক সংগঠন। শক্তিপুরেও এই এজেন্সি কাজ করেছিল। সেখানকার ভিডিওগুলি হিন্দুদের এলাকায় গিয়ে গিয়ে তারা প্রচার করেছিল বিজেপি সেজে। আজকে যে বাংলায় সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে তাতে আইপ্যাকের ভূমিকা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। দিদির উপরে আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের। আস্থা পুনরুজ্জীবনের জন্য সাম্প্রদায়িক বিভাজনই একমাত্র রাস্তা। 

    মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, বাংলায় যে সাম্প্রদায়িক বিভেদের বাতাবরণ তৈরি করছে বিজেপি নেতারা, যেভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করছে, সেটা অত্যন্ত নিন্দাজনক। বিজেপির রাজ্যের নেতারা যাতে শিষ্টাচার বজায় রাখেন এবং এই বাংলায় যাতে হিন্দু মুসলিম শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে পারে এই অনুরোধ থাকবে। কোনও কথা বা কারও উস্কানিতে যদি ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় তাহলে বাংলার জন্য তা দুর্ভাগ্যের হবে। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আবেদন করব, সকলে যেন শান্ত থাকে এবং শান্তি বজায় রাখে। কেউ যেন কোনও প্ররোচনায় পা না দেয়।
  • Link to this news (বর্তমান)