রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: ৭৭-এ শুরু হয়েছিল। আর এখন বিজেপির ব্যাট হাতে রাজনীতির ময়দানে রয়েছেন ৬৫ জন। সংখ্যাটা যে আরও কমতে পারে, তার ইঙ্গিত কয়েকদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে। কিন্তু এবার শোনা যাচ্ছে, চারজন বিজেপি বিধায়কের দলবদলের পাল্লা নাকি ভারী হয়ে উঠেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁরা একপ্রস্থ কথাও বলে ফেলেছেন বলে খবর। দু’পক্ষের আলাপ-আলোচনা ফলপ্রসূ হলেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন নিয়ে যোগদান পর্ব সম্পন্ন হবে।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ‘অব কি বার ২০০ পার’ স্বপ্ন চুরমার হওয়ার পর দফায় দফায় অনেকেই গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ধরিয়েছেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন গত ১০ মার্চ। হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল হাতে তুলে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের পতাকা। আগামী দিনে আরও কয়েকজন বিধায়ক যে তৃণমূল ভবন-মুখী, তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে রাজ্যের শাসক দলের ঘর থেকে। দক্ষিণবঙ্গের চার জন বিজেপি বিধায়ক আপাতত ‘আগ্রহী’। তালিকায় রয়েছেন একই জেলার দু’জন বিজেপি বিধায়ক। আলোচনার সূত্র ধরে এক বিজেপি বিধায়ক আবার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন রাজ্যসভায় যেতে চান তিনি। সবটাই এখন আলোচনার স্তরে রয়েছে বলে খবর। তৃণমূলের নজরে রয়েছে মতুয়া গড়ে বিজেপিতে ভাঙন ধরানোতেও।
মূলত পরিষদীয় দলে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপির একাধিক বিধায়ক ক্ষুব্ধ। এমনটাও দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতাই নেই বিজেপি পরিষদীয় দলে। তাছাড়া যেভাবে তৃণমূলের প্রতি বাংলার মানুষের সমর্থন বাড়ছে, তাতে নিজের আসন ২০২৬ সালের ভোটে ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপি বিধায়কদের। তাই ‘নিশ্চিত জায়গা’র খোঁজে বিজেপির অনেকেই তৃণমূলে পা বাড়াচ্ছেন। শুধু আইটি সেল দিয়ে ছাব্বিশে যে দাগ কাটা যাবে না, তা গেরুয়া শিবির বিলক্ষণ বুঝেছে।