দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর টোপ, ৭০ কোটির লোভে লুট ৫ আধাসেনার
বর্তমান | ৩১ মার্চ ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘বাড়িতে লুকানো আছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। হাতিয়ে নিলে ভাগ হবে ফিফটি ফিফটি।’
ধৃত সিআইএসএফ ইনসপেক্টরকে সেটাই বলেছিল ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী আরতি সিং। আর সেই বিপুল পরিমাণ টাকার ‘লোভে’ই আয়কর হানার নামে তল্লাশির ছক কষে সিআইএসএফ! বাগুইআটি কাণ্ডের তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে পুলিস। লুটের ৭০ কোটি টাকা যে সমান দু’ভাগ হবে, সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে সিআইএসএফ ইনসপেক্টরের মৌখিক চুক্তিও হয়েছিল। ফিফটি ফিফটি সমঝোতা। অর্থাৎ, দু’পক্ষের ঝুলিতেই ঢুকবে ৩৫ কোটি টাকা করে! কিন্তু, হানা দিয়ে শেষমেশ হতাশই হতে হয়েছে সিআইএসএফ জওয়ানদের। কারণ, ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে মিলেছে মাত্র ৩ লক্ষ টাকা।
বাগুইআটির চিনার পার্কে প্রয়াত ব্যবসায়ী বিনোদকুমার সিংয়ের বাড়ি। গত ১৮ মার্চ রাত ২টোর সময় কলিং বেল বাজিয়ে আচমকা বাড়িতে ঢোকে অপরিচিত ছ’জন। আয়কর দপ্তর থেকে এসেছি বলে তারা তল্লাশি চালায়। পরদিন সকালে আয়কর দপ্তরে গিয়ে বিনোদবাবুর মেয়ে বিনীতা সিং জানতে পারেন, দপ্তর থেকে কোনও তল্লাশিই হয়নি। তারপরই তিনি বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই এক ইনসপেক্টর সহ সিআইএসএফের (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিওরিটি ফোর্স) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছে বিনোদবাবুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী আরতি সিং সহ আরও তিনজন। সিআইএসএফের সঙ্গে আরও একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকেছিল, তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আরতি সিং ফরাক্কার সিআইএসএফ ইনসপেক্টরের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করে। তারপরই আয়কর দপ্তরের ভুয়ো হানার আড়ালে লুটের পরিকল্পনা। ইনসপেক্টরকে আরতি সিং বলেছিলেন, বাড়ির বিভিন্ন জায়গা মিলিয়ে ৬০-৭০ কোটি টাকা লুকানো আছে। একমাত্র তল্লাশি করলেই সেই সব টাকা পাওয়া যাবে। তা না হলে ওই টাকা বের করা সম্ভব নয়। লুটের টাকার ফিফটি ফিফটি ভাগের পাশাপাশি যা গয়না পাওয়া যাবে, সেটাও দু’ভাগে বাঁটোয়ারার কথা ছিল। তাতে রাজি হয়ে ওই ফরাক্কার ইনসপেক্টরই বাকি চারজন সিআইএসএফ জওয়ানকে এই কাজে নামিয়েছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশিতে বাড়ি থেকে তিন লক্ষ টাকার সঙ্গে বেশ কিছু সোনার গয়না লুট হয়েছিল। প্রয়াত ব্যবসায়ীর মায়ের ৪ জোড়া সোনার দুল, ছ’টি সোনার চেন, আটটি সোনার আংটি, ছ’টি সোনার বালা এবং তিনটি ছোট বাক্সে থাকা কিছু ভাঙাচোরা গয়না। অথচ আরতি সিংয়ের গয়নায় হাতই দেওয়া হয়নি! ব্যবসায়ীর মেয়ে বিনীতা সিং পুলিসকে জানিয়েছেন, তল্লাশি চালাতে আসা অভিযুক্তরা নগদ ও গয়নার সঙ্গে ব্যাঙ্কের পাসবুক, চেকবুক এবং ফিক্সড ডিপোজিটের সার্টিফিকেটও নিয়ে গিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, লুট করা সব জিনিসপত্রই উদ্ধার করা হবে।