'পার্টি অফিসগুলিতে যে শতশত চামচাদের নিয়ে বসে থাকেন...' অক্সফোর্ড কাণ্ডে TMC নেতৃত্বের একাংশকে টার্গেট দেবাংশুর
আজ তক | ৩১ মার্চ ২০২৫
অক্সফোর্ডে কেলগ কলেজে ভাষণ দিতে গিয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আরজি কর কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন থেকে শুরু করে এসএফআই (ইউকে) সমর্থকদের গোব্যাক স্লোগান। এমনই পরিস্থিতি যে, মমতাকে তাঁর আহত হওয়ার একটি পুরনো ছবি তুলে ধরতে হয় বাম ছাত্রদের বিক্ষোভের মধ্যে। বিজেপি-ও নানা রকম কটাক্ষ করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই লন্ডন সফরকে। এহেন সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের একাংশের তীব্র নিন্দায় সরব হলেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। ফেসবুকে লিখলেন, 'আপনারা কেন যুদ্ধের সময় চুপ থাকেন? আপনারা কেন লড়াইয়ের সময় পড়ে পড়ে ঘুমোন? অসময়ে কোথায় হারিয়ে যান?'
বস্তুত, দেবাংশুর নিশানায় তৃণমূল কংগ্রেসের সেই সব নেতানেত্রীরা রয়েছেন, যাঁরা অক্সফোর্ডের ঘটনায় নিন্দা বা বিরোধিতায় সরব হননি। অতীতে দেখা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও অপমান হলে জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতৃত্ব সরব হয়। কিন্তু এবারের লন্ডন সফরে যা ঘটল, তাতে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের গুটি কয়েক নেতা ছাড়া, বাকিরা কার্যত নির্বিকার। এখানেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দেবাংশু। তাঁর কথায়, 'জনপ্রতিনিধি এবং পদাধিকারীদের কাছে অনুরোধ, দয়া করে নেত্রীর অসম্মানের সময় অন্তত মুখ খুলুন। এই নেত্রী এবং দলের অনুমোদনই আপনি, আমি আজ কেউ নির্বাচিত সদস্য, কেউ বা বড় পদের অধিকারী। এই নেত্রীর জন্যেই আজ আমাকে, আপনাকে লোক চিনেছে, জিতিয়েছে। দল আপনাকে কঠিন সময়ে দেখেছে, এগিয়ে দিয়েছে। আপনারা কেন যুদ্ধের সময় চুপ থাকেন? আপনারা কেন লড়াইয়ের সময় পড়ে পড়ে ঘুমোন? অসময়ে কোথায় হারিয়ে যান? এলাকায় একটা মিছিল বার করেন না কেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট করেন না কেন? অনুষ্ঠানের সময় তো মঞ্চে ইয়া বড় বড় ফুলের বুকে আর লম্বা লম্বা উত্তরীয় গলায় ঝোলাতে দুবার ভাবেন না! পদের দাবি জানানোর সময় তো গলার জোরে গগন ভেদ করার জোগাড় হয়.. কিন্তু যুদ্ধের সময়? মৌনব্রত? সব ইস্যুতে দল কিংবা মন্ত্রীরা বলে দেবে, তারপর নামতে হবে? প্রতিবার উপর থেকে আসা কর্মসূচির অপেক্ষা করতে হবে? নেত্রীকে অসম্মান করলে গায়ে জ্বালা ধরে না? তখনও নির্দেশ আসার অপেক্ষা করতে হয়? নিজে থেকে একটা মিছিল কিংবা একটা পথসভা করলে কি দল আপনাকে তাড়িয়ে দেবে? পার্টি অফিস গুলোতে যে শতশত চামচাদের নিয়ে বসে থাকেন, যাদেরকে দিয়ে শুধুমাত্র নিজের সঙ্গে সেলফি কিংবা আপনার ড্রেন উদ্বোধনের ছবি পোষ্ট করান, এসব ইস্যুতে তাদের দিয়ে একটা করে ফেসবুক, টুইটারে পোষ্ট তো করাতে পারেন অন্তত!পারেন না?'
এরপরেই দেবাংশু নিজের বিষয়ে মন্তব্য করে আরও লিখলেন, 'আমরা কজনই লড়ব শুধু? আমরা কজনই মুখ খুলব প্রতিবার? আমরাই গালাগাল খাব? আমাদেরও তো পরিবার আছে, বাড়িতে বুড়ো মা, বাবা আছে। আমরাও তো গা বাঁচিয়ে চলতে পারি! কই, পালিয়ে যাই না তো! আপনারা পালান কেন? সিনিয়র মন্ত্রীরা হাজার একটা কাজের মাঝে ব্যস্ত থাকেন। তারা তাদের সুযোগ সুবিধা মত বলেন বা করেন মাঝে মাঝে। কিন্তু আপনারা? গা বাঁচিয়েই যদি চলবেন তবে পঞ্চায়েতে, পৌরসভার, বিধানসভায়, লোকসভায় দাঁড়িয়েছিলেন কেন? আমায় অনেক ভরসা করে নেত্রী আর অভিষেকদা এই জায়গা দিয়েছেন। প্রথমে কনিষ্ঠতম মুখপাত্র, তারপর রাজ্যের কনিষ্ঠতম যুবর সাধারণ সম্পাদক, তারপর আইটি ইনচার্জ এবং ফাইনালি কনিষ্ঠতম লোকসভার প্রার্থী। এই মানুষগুলো আমায় রাস্তার ধার থেকে কুড়িয়ে তুলে এনে ফুলদানিতে জায়গা দিয়েছেন। যুদ্ধের সময় নীরব থাকা কিংবা গা বাঁচিয়ে চলা আমার কাছে তাদের ভরসার সাথে বেইমানি করার সামিল। আমি পারি না।'
সোশাল মিডিয়ায় দেবাংশু লেখেন, 'পার্টি অফিসগুলোতে শতশত চামচাদের নিয়ে বসে থাকেন, যাদেরকে দিয়ে সেলফি কিম্বা আপনার ড্রেন উদ্বোধনের ছবি পোষ্ট করান, এসব ইস্যুতে তাদের দিয়ে একটা করে পোষ্ট তো করাতে পারেন অন্তত! পারেন না? গা বাঁচিয়েই যদি চলবেন তবে পঞ্চায়েতে, পুরসভায়, বিধানসভায়, লোকসভায় দাঁড়িয়েছিলেন কেন?'