জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'দয়া করে নেত্রীর অসম্মানের সময় অন্তত মুখ খুলুন'। অক্সফোর্ড আবহে এবার জনপ্রতিনিধি এবং পদাধিকারীদের বার্তা দিলেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। বললেন, 'এই নেত্রী এবং দলের অনুমোদনই আপনি, আমি আজ কেউ নির্বাচিত সদস্য, কেউ বা বড় পদের অধিকারী। এই নেত্রীর জন্যেই আজ আমাকে, আপনাকে লোক চিনেছে, জিতিয়েছে'।
দীর্ঘ ফেসবুকে পোস্টে দেবাংশু লিখেছেন, 'দল আপনাকে কঠিন সময়ে দেখেছে, এগিয়ে দিয়েছে। আপনারা কেন যুদ্ধের সময় চুপ থাকেন? আপনারা কেন লড়াইয়ের সময় পড়ে পড়ে ঘুমোন? অসময়ে কোথায় হারিয়ে যান? এলাকায় একটা মিছিল বার করেন না কেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা পোষ্ট করেন না কেন? অনুষ্ঠানের সময় তো মঞ্চে ইয়া বড় বড় ফুলের বুকে আর লম্বা লম্বা উত্তরীয় গলায় ঝোলাতে দুবার ভাবেন না! পদের দাবি জানানোর সময় তো গলার জোরে গগন ভেদ করার জোগাড় হয়.. কিন্তু যুদ্ধের সময়? মৌনব্রত? সব ইস্যুতে দল কিংবা মন্ত্রীরা বলে দেবে, তারপর নামতে হবে? প্রতিবার উপর থেকে আসা কর্মসূচির অপেক্ষা করতে হবে? নেত্রীকে অসম্মান করলে গায়ে জ্বালা ধরে না? তখনও নির্দেশ আসার অপেক্ষা করতে হয়? নিজে থেকে একটা মিছিল কিংবা একটা পথসভা করলে কি দল আপনাকে তাড়িয়ে দেবে? পার্টি অফিস গুলোতে যে শতশত চামচাদের নিয়ে বসে থাকেন, যাদেরকে দিয়ে শুধুমাত্র নিজের সঙ্গে সেলফি কিংবা আপনার ড্রেন উদ্বোধনের ছবি পোষ্ট করান, এসব ইস্যুতে তাদের দিয়ে একটা করে ফেসবুক, টুইটারে পোষ্ট তো করাতে পারেন অন্তত! পারেন না'?
ঘটনাটি ঠিক কী? অক্সফোর্ডের অনুষ্ঠানেও বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা, আরজি করের ঘটনা, এমনকী টাটা বিদায়ের প্রসঙ্গ। কেলগ কলেজে তখন ভাষণ দেওয়ার সময়ে প্রশ্নের বলেন, আপনার দলকে আরও শক্তিশালী হতে বলুন। সাম্প্রদায়িক লোকেদের বিরুদ্ধে লড়তে বলুন। আমার সঙ্গে লড়াই করবেন না।' বিক্ষোভকারীদের বার্তা, 'আমাকে অপমান করছেন করুন। দেশকে অপমান করবেন না'। মুখে পড়তে হয় মুখ্যমন্ত্রীকেও। রীতিমতো বিক্ষোভ চলল। ঠান্ডা মাথাতেই অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দেন মমতা।
এদিকে এই ঘটনায় দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধে তৃণমূলের অন্দরেই। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, 'আমাদের ছাত্র সংগঠন ঘুমিয়ে আছে, ঘুমিয়ে থাক। ওকে আর জাগাবেন না। ওরা ঘুমন্ত, ঘুমিয়েই থাক ওরা। ওরাও ঘুমন্ত, যুবও ঘুমন্ত। কী করে জাগাবেন এদের। এরা নিজে থেকে ওকে কিছু করতে পারে না। তাহলে ঘুমোচ্ছে. ঘুমোতে দিন ওদের। ভালো করে ঘুমোক। জাগাবেন না। ঘুমোচ্ছে, ঘুমোক। ভালো করে ঘুমোক'।
ভিন্নমত তৃণমূলেরই আর এক সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর সাফ কথা, 'আমরা শাসকদল, স্বভাবতই আমাদের ছাত্র যুব সংগঠন বিরোধীদের মতো লাফালাফি করবে না'। এই পরিস্থিতিতে দেবাংশু ফেসবুক পোস্টে তাত্পর্যপূর্ণ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।