ভারতের অর্থনীতি নিয়ে অক্সফোর্ডে মমতা ভুল কিছু বলেননি, মত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির
হিন্দুস্তান টাইমস | ৩১ মার্চ ২০২৫
সদ্য সমাপ্ত লন্ডন সফরে থাকাকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০৬০ সালের মধ্য়ে নাকি ভারত বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতিতে উন্নীত হবে। এই প্রসঙ্গে তাঁর কী মতামত? মমতা সটান জবাব দিয়েছিলেন, তিনি এই দাবির সঙ্গে সহমত নন।
এরপরের ঘটনাক্রমে দেখা গিয়েছে, এই মন্তব্যের জন্য মূলত বিজেপি শিবির মমতার বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে ভারতকে অসম্মান করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকী,ভবিষ্যতে তিনি যাতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আর কখনও কোনও বিদেশ সফর করার অনুমতি না পান, সেই ব্যবস্থাও পাকা করতে চেয়েছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এই প্রেক্ষাপটে মমতার ওই মন্তব্য সমর্থন করল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। টাইমস অফ ইন্ডিয়া অনুসারে - রবিবার বঙ্গ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়, অর্থনীতি প্রসঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় অক্সফোর্ডে যে মন্তব্য করেছেন, তা একেবারেই যথার্থ। সেই মন্তব্য ভারতে করা হোক, কিংবা ইউকে-তে, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ, তাতে সত্য কখনও বদলে যায় না।
যদিও বিজেপির বক্তব্য হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বাংলার প্রশাসনিক প্রধান হয়ে ভারতের প্রশাসনিক প্রধান - অর্থাৎ - প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবির বিরোধিতা করেছেন। কারণ, প্রধানমন্ত্রী অক্সফোর্ডে দাবি করেছিলেন, ২০৬০ সালের মধ্যে ভারত একটি অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ারে উন্নীত হবে।
বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, 'যদি কোনও নেতা বা নেত্রী, সঠিক প্রশ্ন বা উদ্বেগ উত্থাপন করেন, তা সে দেশের মাটিতে হোক, কিংবা বিদেশের মাটিতে, তাহলে কখনই তাঁকে সেই কারণে অসম্মান করা উচিত নয়।'
এই বিষয় নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন বিজেপি লাগাতার মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে আক্রমণ করলেও শুভঙ্কর অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যে মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস অন্তত তাকে বেঠিক বা ভুল বলে মনে করে না।
নিজের ও দলের এই অবস্থানের ব্যাখ্য়া দিয়ে শুভঙ্কর বলেন, 'বর্তমানে দেশে বেকারত্বের হার গত প্রায় সাড়ে চার দশকের মধ্য়ে সবথেকে বেশি। মানুষ এখন সরকারি রেশনের উপর নির্ভর করে জীবনধারণ করছে। ভারতের অর্থনীতির অবস্থা যে অত্যন্ত খারাপ, সেটা লুকিয়ে রাখার আর কোনও অবকাশই নেই। শেয়ার মার্কেট সর্বক্ষণ টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতীয় মুদ্রার দাম লাগাতার কমছে। সবাই সবকিছুই জানে। কেন তাহলে এ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না? তার তো কোনও কারণ নেই।'
অন্যদিকে, মমতার মন্তব্য়ের প্রেক্ষিতে শুভঙ্করের পূর্বসূরি অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, এই ধরনের কথা বললে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাই রাজ্য়ে বিনিয়োগ করতে ভরসা পাবেন না।