• ৬ এপ্রিল থেকেই ছাব্বিশের যুদ্ধ শুরু? রামনবমী ঘিরে যা চলছে...
    আজ তক | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • Ram Navami 2025: ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে রামনবমীকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিবেশ। প্রতিবেশী বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগে যেন সেই উত্তেজনায় ইন্ধন জুগিয়েছে। ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে মেরুকরণের রাজনীতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় উৎসব যেন প্রকৃত অর্থেই রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। একদিকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস, অন্য়দিকে বিরোধী বিজেপি ক্রমেই রামনবমী ইস্যুতে একে অপরকে আক্রমণ করে চলেছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি-র এমনিতেই টার্গেট হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক। আর সেটার জন্য রামনবমীকে কাজে লাগানো হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) রাজ্যে তিন কোটি মানুষকে রাস্তায় নামানোর লক্ষ্য স্থির করেছে। ৬ এপ্রিল রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে রামনবমীর মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার প্রতিবাদও হবে এই মিছিলে।

    বিজেপি রাজ্য সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় আমাদের চোখ খুলে গিয়েছে। যদি এখনই আটকানো না করা হয়, তবে বাংলাতেও হিন্দুরা একই পরিস্থিতির শিকার হবে।' তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'বাংলায় তৃণমূলের মদতে জিহাদিরা হিন্দুদের উপর হামলা চালাচ্ছে। এবারের রামনবমীতেই সেই অত্যাচারের জবাব দেওয়া হবে।'

    VHP-র পশ্চিমবঙ্গ সম্পাদক চন্দ্রনাথ দাস জানান, এবারের রামনবমী উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়েছে তিনটি বিষয়:

    ১) অযোধ্যার রামমন্দির ও কুম্ভমেলায় বাঙালির রেকর্ড সংখ্যক উপস্থিতি।
    ২) বাংলাদেশে আক্রান্ত আত্মীয়-পরিজনের প্রতি সমবেদনা।
    ৩) তৃণমূল সরকারের 'তোষণ নীতি'র বিরুদ্ধে ক্ষোভ।

    RSS-এর এক শীর্ষ নেতা বলেন, 'বাংলাদেশ এবং বাংলায় হিন্দুদের উপর হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবেই। সফলভাবে রামনবমী পালন হলে বাংলাদেশে অত্যাচারিত হিন্দুরাও আশার আলো দেখবে।'

    গত বছর রাজ্যে প্রায় ১,০০০টি রামনবমীর মিছিল হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩,০০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। VHP সূত্রের খবর, অন্তত ১০০টি মিছিলে ৩৫ হাজারের বেশি জনসমাগম হবে। বেশ কিছু মিছিলে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেবে। বিজেপি কর্মীরা এই মিছিলকে ভোট কৌশলের অংশ বলেই মনে করছে।

    বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'গতবার ৫০ লক্ষ হিন্দু রামনবমী পালনে অংশ নিয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা ছাড়াবে এক কোটি। ২০২৬-এ বাংলায় হিন্দু সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।'

    অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার করছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, 'ধর্মের নামে ব্যবসা করা দলকে বাংলার মানুষ গ্রহণ করবে না।' তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের গলাতেও একই সুর। তিনি বলেন, 'ধর্মীয় উৎসবকে অস্ত্রে পরিণত করে বিজেপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে।'

    রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই রামনবমী এবং ইদের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। অতীতেও রামনবমীকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে বহুবার সাম্প্রদায়িক অশান্তি দেখা গিয়েছে। ২০১৮-তে আসানসোলে বড় আকারের হিংসায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া এবং মালদায় সংঘর্ষ হয়।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনার কারণে এবারের রামনবমী আরও 'স্পর্শকাতর'। বিজেপি নেতাদের দাবি, গত বছরের অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে কয়েকশো হিন্দু পরিবার আক্রান্ত হয়েছে, বহু মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। রামনবমীতে তার প্রতিবাদ জানানো হবে।

    বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, 'বাংলাদেশে আমাদের হিন্দু ভাইরা অত্যাচারের শিকার। বাংলায় আমরা এমনটা হতে দেব না।'

    তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে বাংলায় আমদানি করে ভোট মেরুকরণ করতে চাইছে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করছে।'

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন ভট্টাচার্যের মতে, 'বিজেপি প্রকৃত হিন্দু ঐক্যের জন্য কাজ করলে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধেও সরব হত। আসলে বিজেপির হিন্দুত্ব প্রচারের মাধ্যমে ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে।'
  • Link to this news (আজ তক)