জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: খাস কলকাতায় এবার অস্ত্র পুজো! প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া রামনবমীতে মেগা কর্মসূচি চূ়ড়ান্ত করে ফেলল বিজেপি। ফলাকাটা বিধায়ক দীপক বর্মণের হুঁশিয়ারি, 'সনাতনীদের দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। রামনবমীতে কেউ বাধা দিলে সনাতনী হিন্দুরাই রুখে দেবে'।
আর বেশি দেরি নেই। আগামী ৬ এপ্রিল রামনবমী। ফলাকাটার বিজেপি বিধায়ক বলেন, 'রামনবমীর মিছিল প্রতি বছরের মতো এবছরও হবে। সনাতনী হিন্দু সমাজ কোনওদিন কাউকে আক্রমণ করেনি। কিন্তু তারা কখনও দুর্বল ছিল না'। সঙ্গে হুঁশিয়ারি, 'তো সেই মিছিলের উপর আক্রমণ করতে এলে তার সমুচিত জবাব, তারা পেয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ কি পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছে নাকি! মিছিলে বাধা এলে বাধা অতিক্রম করে সনাতন হিন্দু সমাজ এগিয়ে যাবে'।
এদিকে পুলিসের অনুমতি মেলেনি। কিন্তু রামনবমীতে শুধুমাত্র কলকাতাতেই একশোরও বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে ফেলেছে বিজেপি। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় ১৬ মিছিল বেরোবে। মিছিল করবে বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। সঙ্গে অস্ত্র মিছিলও। বিজেপি তমোঘ্ন ঘোষ সাফ কথা, 'ঈদ যাঁরা পালন করেছেন, তাঁরা করতেই পারেন। কিন্তু তাঁদের অনুমতি ছিল কি ৮২ রাস্তা বন্ধ করার? যদি অন্যের অনুমতি না লাগে, তাহলে রামনবমী পালন করতে কেন আমাদের অনুমতি লাগবে। এটা বুঝতে পারছি না। আর অনুমতি চাইলেই বা অনুমতি দেওয়া হবে না কেন? কারণ, যেকোনও জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব তো পুলিস প্রশাসনের'।
তৃণমূল মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় পালের পাল্টা দাবি, 'রামনবমীর সঙ্গে রামের কোনও সম্পর্ক নেই। পশ্চিমবঙ্গে অতীতে রামনবমীর বহুবার হয়েছে। সালকিয়া থেকে বারাসত বহুবার মিছিল হয়েছে। রা হিন্দু, পশ্চিমবঙ্গে তাদের আরাধ্য দেবতা, একেক এক জায়গায় একে এক রকম। প্রত্যেক জেলায় আলাদা করে বড় করে পুজো হয়। চন্দননগরে যেমন জগদ্ধাত্রী পুজো বড় হয়, আবার বহরমপুরে শিবের পুজো বড় হয়'। বলেন, 'বিজেপির কাছে ধর্ম কীভাবে পালন করর, সেটা শিখব না। বিজেপি একটা চক্রান্ত করছে। বাংলার মানুষ ব্যর্থ করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ে নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের রাস্তায় হাঁটবে'।