• সম্প্রীতির আবহে পালিত ঈদ সুজাপুরে নামাজে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: গৌড়বঙ্গের তিন জেলায় নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে পালন হল ঈদ। খুশির পরিবেশ সব মহলে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজে শামিল হয়েছিলেন বিশিষ্টজনেরাও। একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ। গৌড়বঙ্গে অক্ষুণ্ণ থেকেছে সম্প্রীতির ঐতিহ্য। 

    মালদহের সুজাপুরে এদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয়। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এই ময়দানে ঈদের নামাজ পাঠের অনুষ্ঠান রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা। কলকাতার রেড রোডের পরেই কালিয়াচকের সুজাপুরে রাজ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এদিন ঈদগাহ ময়দানকে সুসজ্জিত করা হয় উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে।

    মোথাবাড়ি থানা এলাকার ৬৩টি স্থানে এদিন ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন জায়গায় বসে খাবারের স্টল। সব সম্প্রদায়ের মানুষ খাবার বেচাকেনা করেন সেখানে। পাশাপাশি, ইংলিশবাজারের সুভাষপল্লি ঈদগাহ ময়দানে মালদহ শহরের বৃহত্তম নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মালদহ শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে  শতাধিক মহিলা একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েন।

    এদিন ঈদের নামাজ পড়েন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও তাজমুল হোসেন, রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ মৌসম নূরও। এছাড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি, মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী, প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী এদিন ঈদের নামাজ ও উৎসবে শামিল হন।

    সোমবার আনন্দে মেতে ওঠেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলাম ধর্মাবলম্বীরাও। সোমবার সকাল থেকে রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, চোপড়া, ইটাহার, সর্বত্র মসজিদ, ইদগাহগুলিতে নামাজ পড়তে ভিড় করেন তাঁরা। শেষে একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টিমুখ। রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ইদগাহে শয়ে শয়ে মানুষ নামাজ পড়েন। সেখানে সকালে নামাজিদের শুভেচ্ছা জানাতে পৌঁছন রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন সন্দীপ বিশ্বাস। সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেন তিনি। আবার ওই ঈদগাহ মাঠেই রাখি পরিয়ে নামাজিদের মিষ্টিমুখ করান ডিওয়াইএফআইয়ের কর্মীরা। অল্প বয়সীরা অনেকেই নিজেদের আত্মীয় পরিজনদের বাড়ি, পার্কে ভিড় জমান। 

    চোপড়া পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি ঈদগাহে গিয়ে ইমামদের হাতে ফুলের তোড়া ও মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিকেলে হাপতিয়াগছ, বেরং ব্রিজ এবং ডাউক ব্যারেজ পিকনিক স্পটে জমে ওঠে মেলা। দূরদূরান্ত থেকে ঘুরতে এসেছিলেন অনেকে। দুপুরের পর থেকে ডাউক ব্যারেজ ঘাটে চারিদিক থেকে দলে দলে মানুষ ছুটে আসেন। বালুরঘাটের বিভিন্ন এলাকায় ছিল নজরকাড়া ভিড়। পার্ক, রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গাগুলিতে চোখে পড়ার মতো ভিড় দেখা যায়। সকাল থেকেই বড় পার্ক, আরণ্যক, সুরেশ রঞ্জন পার্কে বহু মানুষ সপরিবার জড়ো হয়েছিলেন।  পুত্র ঈশার সঙ্গে আবু হাসেম খান চৌধুরী। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)