• ছ’বছর পড়ে রয়েছে কাঁথির হাসপাতালের রোগীর পরিজন ও কর্মরতা মহিলাদের জন্য তৈরি আবাসন
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • সংবাদদাতা, কাঁথি: তৈরির পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ছ’বছর। কাঁথিতে আজ পর্যন্ত চালু হয়নি কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের রোগীর পরিজনদের রাত্রিনিবাস এবং কর্মরতা মহিলাদের থাকার আবাস। কাঁথি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মদাসবাড় এলাকায় কাঁথি-মাজনা পাকা রাস্তার পাশে ওই বহুতল ভবনটি রয়েছে। আবাসন দপ্তরের উদ্যোগে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি গড়ে উঠেছে। কবে চালু হবে, তার কোনও খবর প্রশাসনের কর্তাদের কাছে নেই। এমতাবস্থায় সেভাবেই অব্যবহৃত অবস্থায় ভবনটি পড়ে রয়েছে। অবিলম্বে এই আবাস চালু করা হোক, এই দাবিই তুলেছেন শহরের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, আবাস যদি সংশ্লিষ্ট দপ্তর না চালায়, তাহলে পুরসভা যদি তাদের হাতে নিয়ে তা ভাড়ায় দেয়, খুব ভালো হবে। এতে আবাসটি যেমন সচল থাকবে, তেমনি অনেকের থাকার বন্দোবস্ত হবে। 

    ২০১৯সালে ৩০জানুয়ারি ধর্মদাসবাড় মৌজায় কয়েক একর সরকারি জায়গার উপর এই আবাসের কাজের সূচনা হয়। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক তথা রাজ্যের বর্তমান আইনমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বলা হয়েছিল, এই আবাস কাঁথি মহকুমা চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর পরিজনদের রাত্রিনিবাসের পরিকাঠামো তৈরি করা হল। এখানে কর্মরতা মহিলারাও থাকবেন। কিন্তু তা হয়নি। এর আগে কাজের সূচনার পর বিশালাকার ভবন গড়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে ৩৬টি ঘর রয়েছে।  বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। বসেছে এসি, রয়েছে জলাধার সহ অন্যান্য পরিকাঠামো। অথচ কেউ না থাকায় আবাসটি যেন খাঁ খাঁ করছে। নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য বরাদ্দ ঘর তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, ধর্মদাসবাড়ের এই আবাস থেকে মহকুমা হাসপাতালের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার। পুরসভা এলাকার মধ্যে হলেও খানিকটা ফাঁকা, জনবসতিহীন এলাকায় এই ভবনটি গড়ে উঠেছে। রোগীর পরিজনরা কিংবা কর্মরতা মহিলারা সেখানে যাবেন কি না, তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন ছিল। যা হওয়ার হয়েছে। প্রশ্ন হয়েই রয়ে গিয়েছে। চালুই হয়নি। আবাসটি কারা চালাবেন, কারা উপকৃত হবেন, সেকথা মাথায় না রেখেই এই ভবনটি তৈরি করা হয়েছে বলেই অনেকের বক্তব্য। 

    স্থানীয় বাসিন্দা নন্দ চক্রবর্তী বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। পুরসভা যদি এই আবাসটি তাদের আওতায় নিয়ে মাসে ১০হাজার টাকা ভাড়ায় চালাতে পারে, তাহলে কর্তৃপক্ষ লাভবান হবে বলে আমরা মনে করছি।   মহকুমা শাসক সৌভিক ভট্টাচার্য বলেন, ওই আবাস কারা চালাবে, জানি না। যতদূর জানি, আবাসটি তৈরি হওয়ার পর কাউকে হস্তান্তর করা হয়নি। তাই চালু হয়নি। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিরঞ্জন মান্না বলেন, ওই আবাসন পুরসভার নয়। কারা দায়িত্ব নেবে, কারা চালাবে, সেটা বলা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।  
  • Link to this news (বর্তমান)