• নবদ্বীপের সিদ্ধেশ্বরী শিবের পুজোয় এবার ২০ জন সন্ন্যাসী
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ বাবলারির সিদ্ধেশ্বরী মাতা মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধেশ্বর শিবের পুজোয় এবছরই প্রথম ২০জন ভক্ত গাজনের সন্ন্যাসী হচ্ছেন। সোমবার মন্দির প্রাঙ্গণে ১৫দিনের কামানের মধ্যে দিয়ে গাজন উৎসবের সন্ন্যাস গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হল।

    সাড়ে পাঁচশো বছরের প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মাতা মন্দির প্রাঙ্গণে সিদ্ধেশ্বরীমাতা ছাড়াও সিদ্ধেশ্বর শিব, তুলসী দেবী এবং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বিগ্রহ রয়েছে। ১৯৯৮ সালে এই কালী মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত হয় সিদ্ধেশ্বর শিব। মূল সন্ন্যাসী গৌর চক্রবর্তী বলেন, মন্দির থেকে উত্তরীয় দেওয়ার পর সিদ্ধেশ্বর শিবের সন্ন্যাসীরা গাজনে অংশ নেবেন। শ্মশানে শিবপুজো, আগুন খেলা, কপালবান, মহাগাজনে কাঁটাখেলা থেকে শুরু করে সাতশিব স্নান, নীল পুজো হবে। এমনকী সিদ্ধেশ্বর শিবের সন্ন্যাসীরা প্রাচীন তপোবনের শিবপুজো, ভাণ্ডারটিকুরি একডালা শ্মশানে শিবের উদ্দেশে শ্মশানপুজোয় অংশ নেবেন। ওইদিনই মন্দির থেকে সিদ্ধেশ্বরকে নিয়ে নবদ্বীপের গঙ্গায় স্নানে যাবেন সন্ন্যাসীরা।

    মন্দির কমিটির অন্যতম প্রধান পরিচালক অসিতকুমার দে বলেন, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত এই মন্দির। এখানে প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর ধরে প্রাচীন ব্রহ্মশিলার মধ্যে দেবী বিরাজমান। সিদ্ধেশ্বরী মাতার এখানে কোনও মূর্তি ছিল না। ব্রহ্মশিলা ও ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেবীর পুজো হয়ে আসছিল। এক বছর আগে সাধারণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় এখানে দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ১৯৯৮সালে এখানে সিদ্ধেশ্বর শিবের মূর্তিও স্থাপন করা হয়েছে।

    গাজন উৎসবের মূল উদ্যোক্তা পিন্টু ধর বলেন, সন্ন্যাসীদের একপ্রকার সবকিছু ত্যাগ করে এই ব্রত পালন করতে হয়। সেকারণে সকল সন্ন্যাসীকে এই মন্দিরে হবিষ্যি থেকে শুরু করে সমস্ত ক্রিয়াকলাপ একইসঙ্গে করতে হবে। কোনও ভক্ত এই গাজন উৎসবের সন্ন্যাসী হতে আগ্রহী হলে তাঁরাও এই গাজন উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এবছরই নীলপুজোর পর ফলের দিন প্রথম সিদ্ধেশ্বর শিব ভক্তদের বাড়ি বাড়ি পুজো নিতে বের হবেন। 

    মন্দির কমিটির সভাপতি পার্থসারথি গুঁই ও সম্পাদক বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রথমা স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়াদেবী এই গ্রামে জন্মেছিলেন বলেই এখানে সকলের কাছে পরিচিত। মন্দিরের পুরোহিত দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, এখানে সিদ্ধেশ্বরী মাতার পুজোর পাশাপাশি সিদ্ধেশ্বর শিবের প্রতিদিন পুজো হয়। মন্দির কমিটির প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ কালীপদ রাহা ও গৌতম নন্দী বলেন, সিদ্ধেশ্বরী মাতা ও সিদ্ধেশ্বর শিবের কাছে এসে কেউ নিরাশ হয়ে ফেরেন না।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)