• জলাশয় ‘কাটিম’ ভরাটের অভিযোগ, আন্দোলনে স্থানীয়রা, সরব সিপিএমও
    বর্তমান | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সংস্কারের নাম করে ভরাট হচ্ছে জলাশয়—এমনই অভিযোগ ঘিরে রাজনীতির ময়দান গরম হচ্ছে রানাঘাট ২ ব্লকের হিজুলি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তিনগরে। প্রায় ৭২ বিঘা জলাশয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের মদতে ভরাট হচ্ছে  বলে অভিযোগ। প্রতিরোধের পথে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবাইকে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে রীতিমতো মাইকিং করে। বিলি করা হচ্ছে  লিফলেটও। যদিও জলাশয়ের মালিকের দাবি, ভরাট নয়। চাষের জন্য সেটি সংস্কার হচ্ছে। 

    শান্তিনগরের ওই জলাশয়টি ব্রিটিশ আমল থেকেই ‘কাটিম’ নামে সর্বজনবিদিত। সেটি গোটা এলাকার জলের অন্যতম উৎস। বৃষ্টির জল নিকাশিরও অন্যতম মাধ্যম। বিএলআরও সূত্রের খবর, সরকারি রেকর্ডে ১১২ নম্বর হিজুলি মৌজার অধীন ৬১ দাগের অধীনস্থ ৭২ বিঘা জমি জলাশয় বলেই উল্লেখিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দু’মাস ধরে জলাশয়ে জেগে ওঠা চর কেটে ভরাট করা হচ্ছে গভীর অংশগুলি। বড় বড় জেসিবি নামিয়ে চরের মাটি কেটে সমান করে দেওয়া হচ্ছে। আর এভাবে ভরাট হতে থাকলে জলাশয়ের জল ধারণের ক্ষমতা অচিরেই হ্রাস পাবে। বর্ষায় গোটা এলাকা বানভাসি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রতিবাদে শামিল হওয়া মানুষজন। 

    বর্তমানে গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে সিপিএম। স্থানীয়দের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে পথে নেমেছে তারাও। হিজুলি পশ্চিম শাখা সংগঠনের তরফে সোমবার মাইকিং করা হয়। জলাজমি ভরাটের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সিপিএমের হিজুলি পশ্চিম শাখার সম্পাদক মহাবীর দাস বলেন, ‘জমি কারবারিরা জলাশয় ভরাট করে তা বিক্রির চক্রান্ত করছে। বেআইনি এই কাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতারা। অবিলম্বে ভরাটের কাজ বন্ধ না হলে আগামীদিনে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।     

    জানা গিয়েছে. জলাশয়টিতে একসময় মাছের চাষ হতো। সেই সূত্রে অন্যতম অংশীদার তথা তৃণমূল নেতা বাণীকুমার রায়। একদা তিনি নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতিও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ওই জলাশয় সংস্কারের কাজ চলছে। ভরাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। প্লট করে বিক্রির যে অভিযোগ উঠছে, তারও কোনও ভিত্তি নেই। মাঝের গভীরতা বৃদ্ধির জন্য সেখান থেকে মাটি কেটে পাড়ে রাখা হচ্ছে।’ জলাশয়ের অন্যতম মালিক রামানন্দ পোদ্দার বলেন, ‘সরকারি অনুমতি নিয়ে সংস্কারের কাজ হচ্ছে। বিএলআরও মাটি বিক্রির অনুমতি দেয়নি। তাই, মাঝখান থেকে মাটি খুঁড়ে সেগুলি পাড়ে জমা করা হচ্ছে। এতে অবশ্য জলাশয়ের আয়তন বিঘে পাঁচেকের মতো কমে যেতে পারে।’ 

    রানাঘাট-২ ব্লকের ভূমি সংস্কার আধিকারিক রূপক ধাওয়াল বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। অতিরিক্ত ভরাট করে পাড় যদি চওড়া করা হয়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ হিজুলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রূপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জলাশয় ভরাট হচ্ছে এমন কোনও অভিযোগ পঞ্চায়েতে জমা পড়েনি। অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে। ভরাট হওয়ার প্রমাণ মিললে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)