নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অবৈধ সম্পর্কের জেরে দুই সন্তানকে ফেলে ঘর ছেড়েছিলেন এক বধূ। কিন্তু শেষমেষ সম্পর্ক টিকল না। পরকীয়ার ফাঁদে পড়ে প্রেমিকের হাতেই খুন হতে হল তাঁকে। মিনাখাঁয় ভেড়ি থেকে এক বধূর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা এমনই নয়া মোড় নিয়েছে। পুলিস ওই প্রেমিকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
গত শুক্রবার মিনাখাঁর দেবীতলা কাহারপাড়া মেছোভেড়ি থেকে পুলিস এক বধূর দেহ উদ্ধার করে। মৃতার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেদিন তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। এরপর পুলিসের পক্ষ থেকে ওই যুবতীর ছবি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে বসিরহাট থানায় এক বধূর নিখোঁজের অভিযোগ হয়। নিখোঁজ বধূর পরিবারের লোকেদের পুলিস মিনাখাঁয় উদ্ধার হওয়া মৃতার ছবি দেখায়। তাঁরা ওই বধূকে শনাক্ত করেন।
পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম রিজিয়া বিবি (৩২)। তাঁর বাড়ি বসিরহাটের পাইকপাড়া এলাকায়। স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বাপের বাড়িতে থাকতেন। কয়েক মাস আগে হাড়োয়া থানার অন্তর্গত আমতা খাটরার বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই যুবক অবশ্য বিবাহিত। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান আছে। পরিচয়ের পর থেকে রিজিয়া ও প্রেমিকের মধ্যে মোবাইলে কথাবার্তা চলতে থাকে। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, রিজিয়া গভীর রাত পর্যন্ত ওই যুবকের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। মাসখানেক আগে দুই সন্তানকে ফেলে রিজিয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। ছেলেরা বারবার মাকে ফিরে আসতে বললেও রিজিয়া রাজি হননি। বৃহস্পতিবার থেকে বাপের বাড়ির লোকেরা রিজিয়া সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এরপর শুক্রবার মিনাখাঁর কাহারপাড়া এলাকার মেছোভেড়ি থেকে পুলিস এক মহিলার দেহ উদ্ধার করে। তখন পরিবারের লোকেরা রিজিয়ার খুন হওয়ার কথা জানতে পারেন।
মৃতার ছেলে শাহিদ মণ্ডল বলে, আমার মাকে ওই ছেলেটাই খুন করেছে। ওর কঠোর শাস্তি চাই। এদিকে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিকের খোঁজ মিলছে না। তাঁর মোবাইলও বন্ধ। বসিরহাট জেলা পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ হয়েছে থানায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।