মাসের পর মাস গরহাজির রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ এপ্রিল ২০২৫
হুইপ অমান্যকারী বিধায়কদের তালিকা তৈরি করতে গিয়ে কার্যত স্তম্ভিত তৃণমূল পরিষদীয় দল। মাসের পর মাস বিধানসভায় গরহাজির রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। জানা গিয়েছে, বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন তো বটেই, সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনের দুই দফাতেও হাজির হননি শিবপুরের তৃণমূল বিধায়ক। মনোজের এ-হেন আচরণে ‘ক্ষুব্ধ’ তৃণমূল পরিষদীয় দলের একাংশ, কার্যত দলের শীর্ষ স্তরে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। জল্পনা শুরু হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তিনি কি তাহলে আর মন্ত্রী থাকতে চাইছেন না?
অনেকে মনে করছেন তিনি রাজনীতি থেকে হয়তো দূরে সরে যেতে চাইছেন। এরকম ধারনা করার অবশ্য যথেষ্ট কারণও রয়েছে। সম্প্রতি হাওড়া পুরসভার প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী ও মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে মনোজের বিবাদ রয়েছে। যা নিয়ে হাওড়ার রাজনীতিতে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী, শাসক বা বিরোধী দলের কোনও বিধায়ক বিধানসভার অধিবেশন বা কোনও কমিটির বৈঠকে হাজির হতে না পারলে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানাতে হয়। কিন্তু মনোজের তরফে তেমন কিছু করা হয়নি বলে বিধানসভার সচিবালয় সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, শিবপুরে একটি মেলায় পার্কিং নিয়ে মনোজ ও সুজয়ের মধ্যে গোলমালের সূত্রপাত হয়। এমনকি দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সেই বিবাদ মেটাতে আসরে নামেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গোলমাল থামাতে তাঁকে শিবপুরে যেতে হয়েছিল। তবে মনোজ তিওয়ারি ও অরূপ রায়ের এই দ্বন্দ্ব আকস্মিক নয়। ২০২১ সালে মনোজ বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব লেগে রয়েছে, যা শিবপুর বিধানসভা এলাকার অনেকেই জানেন। প্রসঙ্গত অরূপ রায়ের হাত ধরেই তৃণমূলের হাওড়ায় প্রবেশ। হাওড়া জেলার সর্বত্র তাঁর বিচরণ ও আধিপত্য। কিন্তু সেটাকে মেনে নিতে পারছেন না মনোজ। তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে কারও ‘হস্তক্ষেপ’ বরদাস্ত করেন না। এই রাজনৈতিক এলাকা ‘দখল’ নিয়েই অরূপ ও মনোজের বিবাদের সূত্রপাত।
অন্যদিকে হাওড়া পুরসভার প্রশাসক সুজয়ের সঙ্গেও মনোজের সঙ্গে গোলমাল রয়েছে। শিবপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কার শুরুর পর থেকে সেই গোলমালের শুরু। এলাকার বিধায়ক মনোজের অনুগামীরা একটি ফ্লেক্স লাগিয়ে ঘোষণা করেন, মনোজের উদ্যোগে ও হাওড়া পুরসভার সহযোগিতায় রাস্তাটি নির্মিত হচ্ছে। কাজ শেষের পর সুজয়ের পক্ষ থেকে পাল্টা আরও একটি ফ্লেক্স টাঙানো হয়, সেখানে উল্লেখ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এবং সুজয়ের আন্তরিক উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই পাল্টা ফ্লেক্স লাগানো নিয়ে দু’জনের বিরোধ আরও তীব্র হয়। এমনকি ২০২৪ সালের জুন মাসে মনোজ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, তাঁর বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের গতি ‘ধীর’। সুজয় তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন না। সুজয় সেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শিবপুরে যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে।