উত্তরবঙ্গের প্রতি ধারাবাহিক বঞ্চনা হচ্ছে— এই অভিযোগ তুলে এবং তার বিহিত চাইতে কেন্দ্রের দরবারে রাজ্যের বিজেপি বিধায়কেরা।
উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ দলের মুখ্য সচেতক তথা বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ-সহ দিল্লিতে পা দিয়েছেন দশ বিধায়ক। আগামিকাল সকালে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক করবে ওই বিধায়ক দল। আজ শঙ্কর বলেন, ‘‘ধারাবাহিক ভাবে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে উত্তরবঙ্গ। তাই উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের চেয়ে মোদী সরকারের কাছে দাবি জানাতে এসেছি।’’ সূত্রের মতে, মহানন্দা ও গরুমারা অভয়ারণ্যকে ‘ইকো সেনসেটিভ জ়োন’ বা জীববৈচিত্র এলাকার মর্যাদা দেওয়া নিয়ে কাল ভূপেন্দ্র যাদবের কাছে দাবি জানাবেন বিধায়কেরা। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গে এমস গড়ার দাবিও ফের জানাতে চলেছে দলটি। তাই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডার কাছেও সময় চাওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, খেল গাঁও, সৈনিক স্কুল, ইস্টার্ন জ়োনাল কালচারাল সেন্টারের একটি শাখা খোলার দাবিও জানানো হবে।
রাজ্য বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসায় পাহাড় নিয়ে আগামী ২ এপ্রিল ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। বিজেপির দাবি, গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে। যদিও ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থাকছে না। ভোটের আগে ফের রাজ্যভাগের বিষয়টি খুঁচিয়ে তুলে পশ্চিমবঙ্গকে অশান্ত করতেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে উল্টো দিকে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আজ রাজ্যভাগের প্রসঙ্গে শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘দল নীতিগত ভাবে অখণ্ড বাংলার পক্ষে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে অনুন্নয়নের কারণে উত্তরবঙ্গের মানষের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হয়েছে। যা রাজ্যভাগের দাবি ওঠার অন্যতম কারণ। আমার মতে উন্নয়ন হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’’
শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে আজ দিল্লিতে এসেছেন কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা। আগামী ২ এপ্রিল পাহাড় নিয়ে বৈঠকে তাঁরও উপস্থিত থাকার কথা।