• মেয়েদের উপচে পড়া ভিড়ে নমাজ সমাবেশ নিউ টাউনে
    আনন্দবাজার | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • ওঁরা ভেবেছিলেন, মেরেকেটে শ’তিনেক মহিলা নমাজ পড়তে আসবেন। কিন্তু নিউ টাউনের ফুটবল মাঠে ভিড় উপচে পড়ল সোমবার সকালে। নির্দিষ্ট শামিয়ানার নীচে গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে দ্বিগুণের বেশি মেয়েরা জড়ো হলেন। আর পুরুষদের জন‍্যও বেশি করে শতরঞ্চি বিছানোর ব্যবস্থা করতে হল।

    রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার শেখ জেল্লার রহমান এবং স্কুলশিক্ষিকা ইয়াসমিন রহমানের কন‍্যা নওরিন রহমান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, এখন মুম্বইয়ে এমবিএ পড়ছেন। ইয়াসমিন বললেন, “মেয়ে সব সময়ে নিয়মিত নমাজ পড়ে উঠতে পারে না। কিন্তু ইদের নমাজে আসতে দেখি ওরই উৎসাহ বেশি!” নওরিনের দাদা ভুবনেশ্বরের আইসিএমআর-এর বিজ্ঞানী, বৌদি রেডিয়োলজিস্ট প্রাজিনা প্রধানও এই প্রভাতী সামাজিকতার শরিক। সল্টলেকের হোমিয়োপ‍্যাথি কলেজ, স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রছাত্রী, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকেরাও এই ইদ-নমাজের আসরে যোগ দিয়েছিলেন।

    নমাজ পর্ব মিটতে সবার হাতে হাতে সিমুই, শরবত, খাস্তা কচুরি, মিষ্টি তুলে দিলেন হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দারা। সমীর গুপ্ত, বন্দনা চক্রবর্তী, আব্দুল গফফার, হুমায়ুন সিরাজদের সঙ্গে তেলুগুভাষী কর্পোরেট কর্তা আর এস থানিঠিকেও পুরোভাগে দেখা গেল। নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন পর্ষদ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নিউ টাউনের সেকুলার ফ্রন্ট এবং সিটিজ়েন্স ওয়েলফেয়ার ফ্রেটারনিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।

    অনেকের কাছে ইদ মানে প্রধানত ছুটির দিন। নমাজ শেষের সামাজিকতার পরে দুপুরে খেয়েদেয়ে নির্ভেজাল ঘুম। বিমানবন্দর লাগোয়া তল্লাটের বাসিন্দা মহম্মদ নুরুদ্দিনকে অনেক দূর উজিয়ে মোমিনপুরের হুসেন শাহ পার্কে যেতে হয়েছিল। স্কুলপাঠ‍্য বইয়ের প্রকাশক নুরুদ্দিন নমাজের আগে খুব সুন্দর খুতবা পড়েন বা বক্তৃতা দেন। মোমিনপুরের বন্ধুরা তাই খুব ধরেছিলেন। বিশ্ব রাজনীতি বা দেশের পরিস্থিতির নানা সঙ্কটের ছায়া পড়ল নুরুদ্দিনের এ বারের প্রাক্‌-নমাজ ভাষণে। রমজান মাসের মার্জিত আত্মনিয়ন্ত্রণের মনটাকে জিইয়ে রাখতে বললেন তিনি। প্রার্থনা করলেন, দেশে, বিদেশে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের জন‍্য। বাড়িতে বা রাস্তায় নমাজ পড়ার সময়ে মুসলিমদের নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও শান্ত থাকতে বললেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমাদের দেশের সংবিধান বৈচিত্রে বিশ্বাসী। আইনের পথ আঁকড়ে ধরে সবাইকে নিয়ে চলার আদর্শই এ দেশে শেষ কথা।”

    ইদ মানে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ময়দান, সিনেমা হল, রেস্তরাঁয় ভিড়। এক দিন আগে চাঁদ রাতে বা রমজান মাসের প্রতি সন্ধ‍্যায় গমগম করা অনেক অঞ্চলই ইদে শুনশান। জ়াকারিয়া স্ট্রিটে এক মাস ধরে রেশমি পরোটা, হালুয়া নিয়ে বসা আগরার শাহদুল্লাহ এ দিন বিকেলেই ফেরার ট্রেন ধরলেন। লখনউ থেকে আগত নিহারি, কুলচা বিশারদ মহম্মদ আরবাজ সকালে নাখোদা মসজিদের নমাজের পরে দিনটা ঘুমিয়েই কাটালেন। তিনি দু’দিন বাদে লখনউ ফিরবেন।

    এ বার ছোটদের ইদি উপহার দেওয়ার জন‍্য নতুন নোট বিলির ঘোষণা করেছিল স্টেট ব‍্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। ইদের খুশি তাতেও বেড়েছে। নানা সমস‍্যার মধ‍্যেও তাঁদের ‘সহজিয়া’ পত্রিকার বিশেষ ‘ইদ সংখ‍্যা’ বার করতে পেরেছেন এক ঝাঁক বন্ধু— নাফিস আনোয়ার, শেখ সাহেবুল হক, সফি মল্লিক, রাজু দেবনাথেরা। পরের বার পত্রিকাটি আরও ভাল করার সঙ্কল্প তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠল।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)