দুই শতাংশ নগদ ছাড়ের সুযোগ নিয়েই ফের খুলতে চলছে জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্রের। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে জলপাইগুড়িতে চা নিলাম শুরু হতে পারে। চা পর্ষদও ছাড়পত্র দিয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে ধুমধাম করে জলপাইগুড়িতে চা নিলাম কেন্দ্র শুরু হোক, চাইছেন ব্য়বসায়ীরাদের একাংশ। যদিও নিলাম কেন্দ্রের পরিচালন সমিতির বড় অংশের মত, নানা বাধা অতিক্রম করে নিলাম শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্র ভালভাবে চললে পরে উদ্বোধনের অনুষ্ঠান করা হোক।
চা নিলাম কেন্দ্রটি খোলার দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকে তদ্বির করে গিয়েছেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়। বিধানসভা ভোটের আগে জলপাইগুড়ির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল চা নিলাম কেন্দ্রের পুনরুজ্জীবনকে কেন্দ্র করে কৃতিত্ব নেওয়ার আসরে নেমে পড়েছে বিজেপি। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রীকে এনে জলপাইগুড়ি নিলাম কেন্দ্রের ঘটা করে উদ্বোধন চাইছে বিজেপি।
জলপাইগুড়িতে নিলাম শুরু করতে বেশ কিছু পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে। কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ‘আর্থিক সঙ্কটে’র কারণে আপাতত তা স্থগিত রাখতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। সদস্যদের থেকে নেওয়া ফি দিয়েই নিলাম কেন্দ্রের পরিকাঠামো সহ দিনের খরচ আপাতত চালানোর পরিকল্পনা হয়েছে। কেন্দ্রের এক কর্তার দাবি, ভাল পরিমাণে চা এলে পরিকাঠামো তৈরিতে কোনও সমস্যা হবে না।
গত ২০০৫ সালে উদ্বোধন হওয়া জলপাইগুড়ি নিলাম কেন্দ্র ধুঁকতে শুরু করেছিল চায়ের যোগানের অভাবে। ২০১৫ সালে নিলাম পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। জলপাইগুড়িতে চা আনতে ২ শতাংশ নগদ ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নিলামে চা কেনার পরে এক সপ্তাহের মধ্যে দাম মিটিয়ে দিলে ক্রেতারা ২ শতাংশ নগদে ছাড় পাবেন। যার ফলে ক্রেতা যেমন লাভবান হবেন তেমনিই বিক্রেতাও চটজলদি চায়ের দাম পেয়ে যাবেন। এই সুযোগ নিতেই অনেক ক্রেতা-বিক্রেতারা জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে আসবেন বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
নিলাম কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অবশ্য প্রস্তাব ছিল ২ শতাংশের সঙ্গেই ১ শতাংশ ছাড়ও থাকুক। ১৪ দিনে দাম মেটালে ১ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চা পর্ষদ তাতে সম্মতি দেয়নি। জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্রের পরিচালন সমিতির সহ সভাপতি পুরজিৎ বক্সীগুপ্ত বলেন, “চা পর্ষদ যেমন ভাবে বলছে, তেমন ভাবেই নিলাম হোক। আগে ভালভাবে নিলাম শুরু হোক। পরে বাকি সব দেখা যাবে।”