• বন্ধ সমবায় হিমঘর, বিপাকে আলুচাষি
    আনন্দবাজার | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায় গড়ায় জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। অথচ, বছর ছয়েক ধরে বন্ধ খানাকুলের কৃষ্ণনগরের ‘সমবায় হিমঘর’। কবে চালু হবে বুঝতে পারছেন না আলুচাষিরা। আলু রাখতে তাঁদের দূরের ব্যক্তি মালিকানাধীন হিমঘরে যেতে হচ্ছে। পরিচাললনার অভাবেই সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা হিমঘরটির ওই দশা বলে তাঁদের অভিযোগ।

    চাষিদের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে মানছেন খানাকুল ১ ব্লকের সমবায় পরিদর্শক গৌতম সামন্ত। তিনি বলেন, ‘‘পরিচালকমণ্ডলীর অভাবে সমবায় হিমঘরটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়াতেই এই বিপর্যয়। বিষয়টি জেলা দফতরের নজরে আনা হয়েছে। হিমঘরটির জন্য কিছু ঋণ আছে। তহবিলও মজুত আছে। আপাতত ইজারা দিয়ে কোনও ভাবে চালানো যায় কি না, ভাবা হচ্ছে।’’

    হিমঘরটির পোশাকি নাম ‘রাজা রামমোহন রায় সমবায় হিমঘর’। অংশীদারিত্ব আছে সরকারের, স্থানীয় ৩৮টি সমবায় সমিতির এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্যের। সমবায় দফতরের জেলা নিবন্ধক অভিজিৎ সরকার বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে। বিশদে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে”। স্থানীয় সমবায় ব্যাঙ্কের হিসাবে ওই হিমঘরটির ঋণ রয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। যা সুদ সমেত ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা হবে। আবার রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনায় তাদের তহবিল মজুত আছে ৩০ লক্ষের উপর।

    এলাকার মানুষ এবং হিমঘরটির প্রাক্তন পরিচালন কমিটির কর্তারা চাইছেন, যে ভাবেই হোক সেটি চালুর ব্যবস্থা হোক। কারণ, তাতে এলাকার আলুচাষিদের সুবিধা হবে। বেকার হয়ে পড়া হিমঘরের অনেক কর্মীও কাজের সুযোগ পাবেন। হিমঘরের প্রাক্তন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি শৈলেন সিংহ বলেন, “সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই এই বেহাল অবস্থা। মনোনীত বোর্ড গঠন করে তা চালু করতে পারে। এ জন্য একাধিকবার দরবার করেও কিছু হয়নি।”

    চার হাজার টন ধারণ ক্ষমতার হিমঘরটি চালু হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। তৎকালীন ম্যানেজার এবং পরেও অস্থায়ী ভাবে ওই দায়িত্ব সামলানো ভাস্কর রায় বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আধুনিক যন্ত্রপাতি এসেছিল। ভাল চলত। গোড়ায় জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চালানো হত। পরিচালন বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন বোর্ড গঠন না হওয়ায় ২০১১-১২ সাল থেকেই ক্রমশ বেহাল হল হিমঘরটি।”

    খানাকুল ১ ব্লকের সংশ্লিষ্ট রামমোহন ১ পঞ্চায়েত এলাকাটি পুরশুড়া বিধানসভা এলাকায় পড়ে। বন্ধ সমবায় হিমঘর নিয়ে পুরশুড়ার বিধায়ক, বিজেপির বিমান ঘোষ বলেন, “খানাকুলের রামমোহনের জন্মভূমিকে কেন্দ্র করে সার্বিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্তরে আবেদন করা হয়েছে। তার মধ্যে ওই সমবায় হিমঘরও আছে।”

    এলাকার তৃণমূল নেতা তথা খানাকুল ২ ব্লক সভাপতি রমেন প্রামাণিক বলেন, “সমবায় হিমঘরটি যাতে পরিচালন সমিতি গঠন করে অবিলম্বে সচল করা হয়, তা নিয়ে আমরা জেলা সমবায় দফতরে আবেদন করেছি। নিয়মিত দরবারও করছি।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)