• আজ আরও মৃত্যু পাথরপ্রতিমায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেহাংশ, কী পরিস্থিতি?
    আজ তক | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • বাংলা কি বারুদের স্তূপ? প্রশ্নটা জোরাল হচ্ছে, একের পর এক জায়গায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ও মৃত্যু। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় ঢোলাহাটে সোমবার রাতে যা ঘটল, তা শুধু মর্মান্তিকই নয়, অনেকগুলি প্রশ্নও তুলে দিল। আরও কত এরকম পরিস্থিতি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে? আরও একটি মৃত্যু হয়েছে আজ অর্থাত্‍ মঙ্গলবার ভোরে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়ে গেল ৮। যদিও এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। পাথরপ্রতিমার ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারকে নিশানা করতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি সহ বিরোধীরা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন, কেন রাজ্য সরকার তাজা বোমার স্তূপের উপর বসে শাসন চালাচ্ছে? বাজি নয়, শুভেন্দুদের দাবি, ওটা আসলে বোমা তৈরির অবৈধ কারখানা।

    ঠিক কী ঘটেছে পাথরপ্রতিমায়?

    এখনও পর্যন্ত মৃত্যু বেড়ে ৮ হয়ে গিয়েছে। একই পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু। সোমবার রাতে ঢোলাহাটে বণিক পরিবারের বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। 

    বণিক পরিবারে মোট সদস্য ১১ জন। চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তুষার বণিক দুই ভাই। সোমবার এই দুর্ঘটনায় তাঁদের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুরমা প্রভাবতী বণিক (৮০) , চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্তনা বণিক (২৮), দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও অস্মিতা বণিক (৮ মাস) এবং তুষারের দুই সন্তান অনুষ্কা বণিক (৬) এবং অঙ্কিত বণিক (৬ মাস), সুতপা বণিকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। তুষারের স্ত্রীর আজ সকালে মৃত্যু হয়েছে। বাড়ির তিন জন বাইরে ছিলেন বলে তাঁদের কিছু হয়নি। এদিন সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেন্সিক টিম। বিস্ফোরণের অভিঘাত ছিল এতটাই, যে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায় সেই শব্দ। উড়ে যায় বাড়ির ছাদ। এত জোরে বিস্ফোরণ হয় যে, বাড়ির আসবারপত্র ছিটকে গিয়ে পড়ে পাশের মাঠে। জানলার গ্রিল-সহ দেওয়াল উড়ে যায় পাশের এলাকায়। ৩ শিশুর দেহ বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। 

    অবৈধ বাজি কারখানা নাকি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ?

    বণিক পরিবারের ওই বাড়িতে নাকি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ভাবে বাজি কারখানা চলছিল। এমনকী বাজির আড়ালে বোমা তৈরি হত কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ৮-১০ বছর ধরে ওই ব্যবসা চালাচ্ছিলেন দুই ভাই। সবটাই পুলিশ প্রশাসন জানত, দাবি  এলাকার বাসিন্দাদের। ঘটনার পর থেকে দুই ভাইয়ের কোনও খোঁজ পায়নি পুলিশ। যদিও পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানার দাবি, তিনি এলাকাবাসীদের থেকে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন, বাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা ছিল। আগুন ধরার পরে ওই সিলিন্ডার ফেটেই শব্দ হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
  • Link to this news (আজ তক)