'বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার সেলিব্রেট করা হয় সীমান্তবর্তী কিছু জেলায়'
হিন্দুস্তান টাইমস | ০১ এপ্রিল ২০২৫
ইদ উপলক্ষে সোমবার রেড রোডে বক্তৃতা রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি বাংলার সংখ্যালঘু মুসলিমদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। সঙ্গে দিয়েছিলেন সম্প্রীতির বার্তা। এরই সঙ্গে বিজেপিকে তোপ দেগেছিলেন ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ তুলে। এর জবাবে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য পালটা অভিযোগ তুললেন, 'যারা সনাতনীদের শঙ্খ বাজাতে বাধা দিচ্ছে,মুখ্যমন্ত্রী তাদের সমর্থন করছেন।'
এই নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় আজ ধর্মান্ধতা মাথাচাড়া দিয়েছে। এই সব মৌলবাদী সংগঠনগুলি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা কার্যত সেলিব্রেট করেছে সীমান্তবর্তী কিছু জেলায়। যারা হরিধ্বনি দেওয়ার বিরোধিতা করে। তাদের সমর্থন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।' তাঁর কথায়, 'যারা সনাতনীদের শঙ্খ বাজাতে বাধা দিচ্ছে,মুখ্যমন্ত্রী তাদের সমর্থন করছেন।' এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শমীকের অভিযোগ তিনি নাকি হিন্দু ধর্মকে 'নোংরা' বলেছেন। এই নিয়ে তিনি বলেন, 'স্বাধীন ভারতবর্ষের ইতিহাসে আজকের দিন কলঙ্কের দিন! সংবিধানের শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে হিন্দু ধর্মকে নোংরা বলেন!'
এদিকে বাংলার মুসলিমদের গুজরাটের দিকে তাকানোর আবেদন করেন শমীক। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের বলবো একবার গুজরাটের মুসলমানদের খবর নিয়ে দেখুন তারা কিভাবে আছে, আর আপনারা কিভাবে আছেন।' এদিকে শমীক সরাসরি মমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, 'পরের বার মুখ্যমন্ত্রী ইদ-উল-ফিতরের মঞ্চে পৌঁছালেও তিনি আর এই ভাষায় কথা বলতে পারবেন না।'
উল্লেখ্য, সোমবার কলকাতার রেড রোডে ইদের নমাজের মঞ্চে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে উর্দু ও হিন্দিতে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেই বক্তব্যের অংশবিশেষ ভিডিয়ো আকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন শুভেন্দু। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘ইয়ে যো গন্দা ধরম, হম ইসকো নেহি মানতা।’ এই নিয়ে বিজেপি এখন তোপ দাগতে শুরু করেছে মমতাকে।
এদিকে ৩১ মার্চ রেড রোড থেকে মমতা বলেন, 'আপনাদের সাথে গোটা সরকার আছে। আপনারা এটা ভাববেন না যে আপনাদের সঙ্গে কেউ কিছু করতে পারবে।' তিনি বলেন, ‘আপনারা এটা ভাববেন না যে আপনারা একা। আমরা সবাই সবরকমভাবে আপনাদের সাথে আছি। আপনারা কেউ ভাববেন না কোথাও কেউ বলল এই নিষেধাজ্ঞা আপনাদের মেনে চলতে হবে… আমারে প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনি কি হিন্দু? আমি বলেছি, আমি হিন্দু, আমি মুসলিম, আমি শিখ, আমি খ্রিস্টান, আমি ভারতীয়। তুমি কী করার ক্ষমতা আছে?’ মমতা আরও বলেন, 'এরা কী চায়? ডিভাইড অ্যান্ড রুল চায়? আমি চাই না। আমার জীবন দেশের জন্য উৎসর্গিত। সঙ্গে আমার জীবন সমস্ত ধর্ম - জাতির জন্য, সমস্ত সম্প্রদায় সমস্ত পরিবারের জন্য। আপনারা ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকব।'
মমতা আরও বলেন, 'আমি দাঙ্গা চাই না। কেউ প্ররোচনা দিলে তার পায়ে পা লাগাবেন না। এটাই ওদের পরিকল্পনা। এটা ওদের প্ল্যান্টেড গেম। এই ফাঁদে পা দেবেন না। ওদের ছোঁয়াও উচিত নয়। ওরা আপনাকে কিছু বললে মনে রাখবেন দিদি আমাদের সাথে আছেন। আপনাদের সাথে গোটা সরকার আছে। আপনারা এটা ভাববেন না যে আপনাদের সঙ্গে কেউ কিছু করতে পারবে। যারা চিৎকার করে তাদের চিৎকার করতে দেও। কিন্তু ওদের ছোঁবে না। ওদের ছুঁলে ওরা গুরুত্ব পেয়ে যায়। বলছে, চারটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হবে। আমি বললাম মণিপুরে কী হয়েছে? উত্তরপ্রদেশে কী হয়েছে? বিহারে কী হয়েছে? রাজস্থানে কী হয়েছে?'