নান্টু হাজরা: নিউটাউন টোটো চালক খুনের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ ছিল টোটো চালকের প্রেমিকা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে। সেই মত তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। কিন্তু গোটা তদন্ত গতিপথ পাল্টে যায় সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পাওয়ার পরে।
পুলিস সূত্রে খবর রাস্তার একটি সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পায় পুলিস। সেখানে দেখা যায় দুই নাবালক ওই টোটো করে যাচ্ছে। এর পরই ওই নাবালকদের খোঁজ শুরু হয়। সোমবার সকালে তাদের খোঁজ পায় পুলিস। তাদের কে আটক করে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে খুনের কথা।
কীভাবে খুন ?
সূত্রের খবর প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে পিছন থেকে মাথায় আঘাত করে, এর পর একের পর এক আঘাত করতে থাকে।হাতুড়ির পাশাপাশি আরও কোনও ধারালো অস্ত্র ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিস। তবে কি এই দুই নাবালকের পক্ষে ওই লম্বা চওড়া ব্যক্তিকে খুন করা সম্ভব। নাকি এর পিছনে আরো কেউ জড়িত আছে। আগে থেকে কেউ কি ঘটনাস্থলে ছিল? এই সমস্ত বিষয় জানতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কেন খুন ?
পুলিস সূত্রে খবর ও পরিবারের দাবি, সুশান্ত ঘোষের সঙ্গে মামনি নামে ওই মহিলার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। যে সূত্রে তার বাড়িতে যাতায়াত ছিল। এবং এই মামনির এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছিল সুশান্ত, মামনির মেয়ের প্রেমিক ছিল ধৃত নাবালক। সে গোটা বিষয়টি জানতে পারে। এবং সুশান্তর ব্যবহারে ওই নাবালকের আক্রোশ বাড়তে থাকে। এর পরই পরিকল্পনা মাফিক এই খুনের গোটা প্ল্যান করা হয়। দুই নাবালক সবে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে বলে খবর। শনিবার সুশান্তের বাড়িতে ওই প্রেমিক নাবালক সুশান্তর টোটো ভাড়া করতে যায়। তাকে না পেয়ে তার ফোন নাম্বার নিয়ে আসে এবং রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তাকে ডাকে। এবং এই খুনের পিছনে তার এক বন্ধুকেও সঙ্গে নেয়। দুজনে মিলে এই গোটা খুনের ঘটনা ঘটায়।