• ভয়াবহ! নদীর জল খেয়েই বেঁচে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা! কোথায় এই আশ্চর্য করুণ জল-ছবি?
    ২৪ ঘন্টা | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • অরূপ বসাক: শীত কিংবা গরম-- বারোমাসি পানীয় জলের সমস্যায় সোনালি চা-বাগানের মানুষজন। একদিকে বন্ধ এই সোনালি চা-বাগান, এর উপর পানীয় জলের সমস্যায় জেরবার এখানকার বাসিন্দারা। সরকারিভাবে এখনও এই গ্রামের মানুষেরা পানীয় জল পাননি বলে অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়ে নদীর জল খেয়ে বেঁচে আছেন সোনালি চা-বাগানের বাসিন্দারা।

    মালবাজার ব্লকের বাগরাকোট গ্রাম পঞ্চায়েতের তিস্তা নদী-সংলগ্ন এলাকায় এই সোনালি চা-বাগান। গত দেড় বছর আগে এই চা-বাগান কর্তৃপক্ষ বাগান ছেড়ে চলে যায়, তারপর থেকেই বন্ধ রয়েছে বাগান। তাই কোনও রকমে চলছে এখানকার শ্রমিকদের জীবনযাপন। তবে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা পানীয় জলের। শ্রমিকদের দাবি, যখন থেকে তাঁরা এখানে এসেছেন তখন থেকেই পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে এই এলাকায়। বহুবার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দফতরে জানিয়েও পানীয় জলের ব্যবস্থার কোনও সুরাহা হয়নি।

    চা-বাগানে শ্রমিকদের বক্তব্য, বহু আবেদন-নিবেদন করে ২০২৩ সালে লিস লিবার চা-বাগান এলাকায় একটি জলের রিজার্ভয়ার তৈরি করে রাজ্য সরকার। সেই সময় শ্রমিকদের আশা ছিল, এর জল তাঁদের গ্রামে পৌঁছে যাবে। সেই হিসেবে পাইপলাইনে বসানোও হয়েছে। কিন্তু এতদিন পরও সেই পাইপ দিয়ে জল আসেনি। স্থানীয় মন্ত্রী থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত, সব জায়গায় জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে গ্রাম থেকে প্রায় দু'কিলোমিটার দূরে নদীর জল খেয়েই কোনও ভাবে বেঁচে আছেন এই চা বাগানের শ্রমিকেরা।

    মহিলা চা-শ্রমিকদের বক্তব্য, সকাল হলেই তাঁদের মাথায় হাঁড়ি নিয়ে ছুটতে হয় নদীর ঝোরায়। বহু কষ্টে সেখান থেকে জল এনেই আমরা খেয়ে থাকি। এতে পেটের অসুখ-বিসুখ হয়, কিন্তু কোনও উপায় না থাকায় এই জলই খেতে হয় আমাদের। কেউ কেউ বলছেন, পেটের রোগ থেকে বাঁচতে মাঝে মাঝে জল কিনেও খেতে হচ্ছে। আদৌ কি আমাদের গ্রামে পানীয় জল কোনদিন আসবে? এটাই এখন শ্রমিকদের মধ্যে বড় প্রশ্ন।

    এ ব্যাপারে মালবাজারের বিধায়ক তথা আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী বুলুচিক বড়াইক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামে গ্রামে পানীয় জল পৌঁছে গিয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে সমস্ত চা-বাগান এবং গ্রামগঞ্জে পানীয় জলের সুব্যবস্থা হয়ে যাবে। তবে সোনালি চা-বাগানে পানীয় জলের সমস্যা আমার জানা নেই। যদি সেই বাগানে পানীয় জলের সমস্যা থাকে, তবে দ্রুত তার সমাধান করা হবে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)