সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: আচমকা বিকট শব্দ, কয়েক মিনিটের মধ্যেই লেলিহান শিখার গ্রাসে একই পরিবারের ৮ সদস্য। পাথরপ্রতিমার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। এরই মাঝে বিস্ফোরক বণিক পরিবারের প্রতিবেশীরা। দাবি, বহুবার কারখানা বন্ধ করার জন্য পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও লাভ হয়নি। পুলিশ-বিধায়কের সঙ্গে কারখানার মালিকদের সুসম্পর্ককে হাতিয়ার করেই নাকি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাজি-বোমা তৈরি করত বণিকরা।
পাথরপ্রতিমা বিস্ফোরণের পর থেকেই কয়েকটি প্রশ্ন উঠছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কীভাবে গড়ে উঠল এই কারখানা? আদৌ লাইসেন্স ছিল কি? আতসবাজি বিস্ফোরণ কি এমন প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে? কারখানা মালিক চন্দ্রকান্ত বণিকের কাকা থেকে প্রতিবেশী, সকলের দাবিই রীতিমতো ভয়ংকর। ঠিক কী বলছেন স্থানীয়রা? তাঁদের দাবি, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জনবসতির মাঝেই চলছিল বাজি তৈরি। যদিও বাজির আড়ালে সেখানে বোমা তৈরি হত নিয়মিত। যা থেকে বিপদের আশঙ্কা ছিলই। কারখানা বন্ধ করতে বহুবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি বলেই অভিযোগ। চন্দ্রকান্ত বণিকের কাকার দাবি,পুলিশ এই বাজি কারখানা থেকে নিয়মিত টাকা নিত। সেই কারণেই শত অভিযোগেও কোনও লাভ হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু পুলিশ নয়। এই কারখানার নেপথ্যে স্থানীয় বিধায়ক সমীর জানারও মদত ছিল। কারখানার দুই মালিকের সঙ্গেই নাকি খুব ভালো সম্পর্ক ছিল বিধায়কের। সেই কারণেই স্থানীয়দের অভিযোগ সত্ত্বেও দিব্যি চলছিল বাজি-বোমা তৈরি।
সোমবার রাতের ঘটনার পর পেরিয়েছে গোটা রাত। একসঙ্গে একই পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু মানতে পারছেন না স্থানীয়রা। কারখানার মালিক দুই ভাইকে কাঠগড়ায় তুলে কেউ বলছেন, “অশান্তি করতে চাইনি। ভেবেছিলাম ওরা ওদের মতো থাকুক। কিন্তু ভগবান এটা কী করল! বাচ্চাগুলো…।” কেউ কেউ বিস্ফোরণের মুহূর্তের কথা ভেবেই আঁতকে উঠছেন। কারও আক্ষেপ, অভিযোগ শুনে পুলিশ পদক্ষেপ করলে এই পরিণতি হত না।
প্রসঙ্গত, ঘটনার পরই স্থানীয় বিধায়ক দাবি করেছেন, ওই কারখানার লাইসেন্স ছিল। যদি লাইসেন্স থেকেও থাকে, তা ছিল বাজি তৈরির। কিন্তু বিস্ফোরণের যা ভয়াবহতা, তা শুধুমাত্র বাজি ফেটে হয়নি বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। মঙ্গলেই ঘটনাস্থলে যাবেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি বস্তা।