• নিউটাউনে টোটোচালক ‘খুনে’ আটক ২ নাবালক, আরও তথ্য খুঁজছে পুলিশ
    প্রতিদিন | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • বিধান নস্কর, দমদম: গভীর রাতে নিউটাউনে নির্জন রাস্তার পাশে ‘খুন’ হলেন এক টোটোচালক! রবিবার রাতে শহরের ইকো পার্ক থানার আওতাধীন নিউটাউনের ইকোআর্বান ভিলেজের পাশে ১৪ নম্বর ট্যাঙ্কের একটি রাস্তা থেকে ওই ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের খবরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সুশান্ত ঘোষ(৪৩)। তাঁর বাড়ি ঘটনাস্থলের অদূরে রাজারহাট রেকজোয়ানিতে। মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা কার্যত নিশ্চিত, প্রবল আক্রোশের প্রতিশোধ তুলতে সুশান্তকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত, পরে ধারালো ছুরি চালিয়ে গলার নলি এবং যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়া হয় ওই টোটো চালকের। ঘটনার পরই পুলিশ একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বছর ষোলোর দুই নাবালককে আটক করেছে। পুলিশের জেরায় ইতিমধ্যে দু’জনেই পরিকল্পিত খুনের কথা কবুলও করেছে। বিধাননগরের ডেপুটি কমিশনার (নিউটাউন) মানব স্রিংলা বলেন, “ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ওই টোটোচালককে দুই নাবালক খুন করেছে বলে প্রাথামিক তদন্তে অনুমান। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”

    তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সুশান্ত রেকজোয়ানি মাঝেরহাটের যে পাড়ার বাসিন্দা, সেখানেই এক বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই বন্ধুকে নতুন টোটো কেনার জন্য টাকা দিয়েও সাহায্য করে সুশান্ত। সেই সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই দুই পরিবারে অশান্তি বাধে। টোটোচালকের ওই বন্ধু রেকজোয়ানি ছেড়ে নিউটাউনে থাকতে শুরু করেছিলেন। সেই বাড়িতেও যাতায়াত শুরু করে সুশান্ত। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বন্ধুর স্ত্রীর পাশাপাশি ইদানীং তাঁর নাবালিকা কন্যাকে নানা কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন সুশান্ত। সে কথা নাবালিকা তার প্রেমিককে জানিয়েছিল। তার প্রতিশোধ তুলতেই সুশান্তকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় করে পুলিশের অনুমান।

    মৃতের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, রবিবার রাতে শহরের রামমন্দির থেকে একটি টোটো ভাড়া লাগবে বলে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত দুই নাবালক সুশান্তর বাড়িতে যায়। সে সময় সুশান্ত বাড়িতে ছিলেন না। তাই তাঁর নম্বর নিয়ে যায় ওই দু’জন। রবিবার রাত ১০টা নাগাদ একটি অজানা মোবাইল নম্বর থেকে ফোন পান সুশান্ত। তাতে সাড়া দিয়ে ভাড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সুশান্ত। গোটা যাত্রাকালীন পথে টোটোচালকের উপর লক্ষ্য রাখে দুই নাবালক। চালক ইকো আরবান ভিলেজের কাছে এসে পৌঁছতে, নির্জন জায়গা বুঝে দুই নাবালক আচমকা সুশান্তের উপর চড়াও হয়।

    প্রথমে তাঁকে ভারী কোনও বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। তাতে রক্তাক্ত অবস্থায় সুশান্ত মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার পরই ধারালো ছুরি দিয়ে গলার নলি ও পুরুষাঙ্গ-সহ শরীরের একাধিক অংশে আঘাত করা হয়। রাতে ওই এলাকা থেকে পথচারীরা পারাপার করতে গিয়ে ভয়ংকর এই খুনের দৃশ্য লক্ষ্য করেন। তাঁরাই স্থানীয় ইকো পার্ক থানায় খবর পাঠান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিথর অবস্থায় টোটোচালককে উদ্ধার করে চিনারপার্ক সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা সেখানেই টোটোচালককে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় পুলিশ মৃতের পরিচিত ওই বন্ধু ও তার স্ত্রীকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখান থেকে নাবালিকা মেয়ে ও তার প্রেমিকের কথা জানতে পারে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)