দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিধানসভার অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকা মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি-সহ বিধায়কদের তলব করার প্রস্তুতি নিতে চলেছে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সদ্যসমাপ্ত বাজেট অধিবেশনের শেষ দু’দিন দলীয় হুইপ অমান্য করে যে সব বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।
গত মাসের ১৯-২০ তারিখে বিধানসভার অধিবেশনে তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি ‘বাধ্যতামূলক’ করতে তিন লাইনের লিখিত হুইপ জারি করেছিলেন বিধানসভায় শাসকদলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ। ১৯ তারিখ দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিবেশনে যোগদানের কারণে বেশির ভাগ বিধায়কই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে সে দিনও জনা দশেক বিধায়ক গরহাজির ছিলেন বলেই তৃণমূল পরিষদীয় দল সূত্রের খবর। আর অধিবেশনের শেষ দিন সেই অনুপস্থিতির সংখ্যা বেড়ে ৩০-এর উপর গিয়েছিল।
দলীয় হুইপ অমান্য করার বিষয়টি নজরে আসায় বৈঠকে বসেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক নির্মল এবং পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে আলোচনাসাপেক্ষে ঠিক হয়, তৃণমূল পরিষদীয় দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি অনুপস্থিত বিধায়কদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের কমিটির সামনে সশরীরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেবে। কমিটির সামনে হাজির হয়ে নিজেদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে ওই বিধায়কদের। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিল তৃণমূল পরিষদীয় দল। অনুপস্থিত বিধায়কদের তালিকা তৈরির পাশাপাশিই স্পিকারের কাছে কারা আগে থেকে ছুটির আবেদন জানিয়েছিলেন, সেই বিষয়টিও জানতে চেয়েছিল পরিষদীয় দল। সেই তালিকা অনুযায়ী এ বার অনুপস্থিত মন্ত্রী-বিধায়কদের ডাকা শুরু করবে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।
কমিটির পাঁচ সদস্য ইদ উৎসবের কারণে নিজ নিজ এলাকায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু উৎসব মিটে যেতে আবার বিধায়কদের কাছে জবাবদিহি চাইতে উদ্যোগী হয়েছে কমিটি। শোভনদেব ও নির্মল ছাড়াও শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিতে রয়েছেন তিন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার শোভনদেব জানান, ইদ উৎসবের ব্যস্ততা ছিল। কিন্তু সোমবার ইদ হয়ে গিয়েছে। কমিটির সদস্যদের সেই সংক্রান্ত ব্যস্ততাও এখন আর নেই। তাই বাকি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বৈঠকের দিন স্থির করা হবে। সেই বৈঠকেই ঠিক করা হবে, গরহাজির বিধায়কদের কবে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ওই ৩০ জনের বেশি তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে একমাত্র মন্ত্রী মনোজকে ডেকে পাঠানো হলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারী শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, মনোজ মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী।