‘এলজিবিটিকিউ’দের ডেটিং অ্যাপে আলাপ। বন্ধুত্ব গাঢ় হতেই দেখা করেন দু’জন। তার পর তাঁরা যান চারু মার্কেট এলাকার আবাসনের ফ্ল্যাটে। সেখানেই অবিনাশ বাউড়িকে খুন করেন তিনি! পরিচারক খুনের ঘটনায় সোমবার মল্লিকপুর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
শনিবার বিকেলে চারু মার্কেট থানা এলাকার দেশপ্রাণ শাসমল রোডের একটি আবাসন থেকে অবিনাশের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথম থেকেই পুলিশের অনুমান ছিল, ওই যুবককে কেউ বা কারা খুন করেছেন! কিন্তু নেপথ্যে কে বা খুনের কারণ কী, তা স্পষ্ট ছিল না পুলিশের কাছে। তদন্তে নেমে সোমবার পুলিশ এই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতের নাম সাদ্দাম আলম। তাঁর বাড়ি বারুইপুর থানা এলাকার মল্লিকপুরেই। তবে কর্মসূত্রে থাকতেন কলকাতার কড়েয়া থানা এলাকায়।
অবিনাশকে খুনের পরই কলকাতার আস্তানা ছেড়ে মল্লিকপুরে নিজের বাড়িতে উঠেছিলেন সাদ্দাম। সেখান থেকেই গ্রেফতার হন। জেরায় তিনি খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারী সূত্রে খবর, কেটারিংয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত সাদ্দাম। আগে পার্ক স্ট্রিটের একটি নামকরা হোটেলে কাজ করতেন।
সাদ্দামের বয়ান অনুযায়ী, ‘এলজিবিটিকিউ’দের একটি ডেটিং অ্যাপে অবিনাশের সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক গাঢ় হয়। পরে তিনিই দেখা করার জন্য অবিনাশকে ডেকে পাঠান। পরে সেখান থেকে দু’জনে যান দেশপ্রাণ শাসমল রোডের একটি আবাসনে। ফ্ল্যাটের মধ্যে ‘পেমেন্ট’ সংক্রান্ত বচসা হয় দু’জনের। সাদ্দামের দাবি, বচসার মাঝেই রান্নাঘরে রাখা এক ছুরি দিয়ে অবিনাশকে কুপিয়ে খুন করেন!
পুলিশ সাদ্দামের বয়ান খতিয়ে দেখছে। এ ছাড়া, খুনের নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এখনও পর্যন্ত খুনের অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
উল্লেখ্য, অবিনাশ আসানসোলের বাসিন্দা। দেশপ্রাণ শাসমল রোডের ওই আবাসনের পাঁচতলায় ভাড়ায় থাকা কুশল ছাবড়া নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তিনি পরিচারকের কাজ করতেন। শনিবার সেই ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হয় অবিনাশের দেহ।