• 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হোক', নিজের বাড়ি ভেঙে ফেলতেও রাজি পুরপ্রধান!
    ২৪ ঘন্টা | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে জোরকদমে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ভাঙা পড়বে খোদ পুরপ্রধানের বাড়ি!পুরপ্রধান তুহিনকান্তি বেরা বলছেন, 'আমি দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করতে চায়'। করজোড়ে ঘাটালবাসীর কাছে তাঁর আবেদন, 'আপনারা দয়া করে এগিয়ে আসুন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে সহযোগিতা করুন'।

    প্রতিবছর বর্ষাকালে বানভাসি গোটা শহর। জল যন্ত্রণা থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন ঘাটালের মানুষ। কীভাবে? সাংসদ দেবে অনুরোধে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই প্ল্যান বাস্তবায়িত করতে গেলে জমির প্রয়োজন। অনেকে যখন  জমি ছাড়তে রাজি নন, তখন নিজে তিনতলা বাড়িটি ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে সম্মতি দিয়েছেন ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা।

    তুহিনকান্তি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানাব। আমাদের দীপক অধিকারী দেবদা তাঁর যে উদ্যোগকে সম্মান জানানোর জন্য বাড়ি দিয়ে আমি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। ঘাটালের মানুষ, আপনারা দয়া করে এগিয়ে আসুন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে সহযোগিতা করুন। আগামী ভবিষ্যত্‍ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হলে বন্যার জল থেকে মুক্তি পাবে'।

    ঘাটাল শহরের বুক চিরে বয়ে দিয়েছে শিলাবতী নদী। প্রতি বছর বর্ষায়  যখন  নদীর দল বাড়ে, তখন জুবে যায় গোটা শহর। বন্যা রুখতে শহরের ১২ ওয়ার্ড নিয়ে সার্কিট বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। পোশাকি নাম, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। এই বাঁধ তৈরি করতে শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ে ঘাটাল বাজারে দু'দিকে ৬০ ফুট করে জমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা করা হয়েছে। নদী পাড়ে যেমন সরকারি জমি রয়েছে, তেমনি রায়ত জমিও রয়েছে। 

    সরকারি জমি নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। গোল বেধেছে রায়ত জমি নিয়ে। ওই জমিতে থাকা তাঁর বাড়ি যদি ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে পুরপ্রধানের আপত্তি নেই।  কিন্তু যাঁদের দোকান, তাঁরা জমি ছাড়তে রাজি নন। দোকান মালিকদের সাফ কথা, 'এক তিল ছাড়ব না আমরা। অন্যদিকে করুক। আমরা চায়নি, মাস্টার প্ল্যান। জল কোনওদিনই আটকাতে পারেনি। ৭২ সাল থেকে শুনে এসেছি। তখনও বাধা দিচ্ছি, এখনও দিচ্ছি'।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)