যেখানে-সেখানে ব্যারিকেড নয়, রাতের সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া হাই কোর্ট
প্রতিদিন | ০২ এপ্রিল ২০২৫
গোবিন্দ রায়: দুর্ঘটনা এড়াতে এবার জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কগুলিতে যেখানে সেখানে ব্যারিকেড বা গার্ডরেল দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সম্প্রতি এনিয়ে এক জনস্বার্থ মামলায় দায়ের হয় হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। সেই মামলায় নির্দেশ, জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কগুলিতে নির্দিষ্টবিধি মেনে ব্যারিকেড, ব্যারিয়ার বা গার্ডরেল দিতে হবে। রাজ্যকে নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে নির্দেশিকা জারিরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ এও জানিয়েছে, জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কগুলিতে এমন ভাবে ব্যারিকেড, ব্যারিয়ার বা গার্ডরেলের ব্যবহার করতে হবে যাতে রাতের সড়কে অন্তত ১০০ মিটার দূর থেকে তা স্পষ্ট দেখা যায়।
সম্প্রতি এনিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়, জাতীয় সড়কগুলিতে কোনও আইন না মেনে যত্রতত্র ব্যরিকেড দেওয়ার জন্য দূর্ঘটনা বাড়ছে। সাধারণত গাড়ির গতি কমানোর জন্য ব্যারিকেড দেওয়া হয়। কিন্তু কোনও নির্দিষ্টবিধি মেনে ব্যারিকেড না দেওয়ায় ব্যারিকেডই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মামলাকারী ধ্রুব মুখোপাধ্যায়ের আরও দাবি, তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় সড়কে তারা কোনও ব্যারিকেড দেয় না। আবার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষই ব্যারিকেড দিয়ে থাকে।
মামলাকারীর আইনজীবী নিলাঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, কয়েকদিন আগে ব্যারিকেডের জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বর্ধমান আদালতের এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের তরফে অবশ্য পালটা দাবি করা হয়, রাতের বেলায় যান নিয়ন্ত্রণ ও ভিন রাজ্য থেকে আসা পণ্যবাহী গাড়িগুলির উপর নজরদারি করতে জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড বা গার্ডরেল দেওয়া হয়ে থাকে। দুর্ঘটনা ও গাড়ি গতি কমাতে ব্যারিকেড জরুরি। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতির মত, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের কারণে ব্যারিকেড, সেই ব্যারিকেড-ই যদি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা ভয়ঙ্কর। তাই আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেখানে সেখানে ব্যারিকেড দেওয়া যাবে না। এইভাবে ব্যারিকেড দেওয়া জাতীয় সড়ক আইনের পরিপন্থী। সড়কের ঠিক কোন কোন জায়গায় ব্যারিকেড ব্যবহার করা যাবে তা নির্দিষ্ট করতে রাজ্যকে একটি নির্দেশিকা জারিরও নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।