উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে ঘাটাল পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণনগর এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করেছিলেন। একতলা থেকে সেই বাড়ি ধীরে ধীরে দোতলা হয়েছে। ১০ বছর ধরে বাড়িটিকে সাজিয়ে তুলেছেন মনের মতো করে। নাম দিয়েছেন ‘চিত্রালয়’। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বাস্তবায়নের জন্য সেই বাড়ির মায়াই ত্যাগ করতে হবে ঘাটাল পুরসভার পুরপ্রধান তুহিনকান্তি বেরাকে?
ঘাটালের বন্যা প্রতিরোধে শিলাবতী নদীর পাড়ে যে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রিটেইনিং ওয়াল বা সার্কিট বাঁধ (কংক্রিটের গার্ডওয়াল) গড়ে তোলা হবে, তার জন্যই ভাঙা হতে পারে খোদ পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়ি। শুধু তাঁর বাড়ি নয়, ঘাটাল পুরসভার ৩ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে থাকা কয়কশো বাড়ি, দোকান ভেঙে ফেলা হতে পারে এই সার্কিট বাঁধ তথা রিটেইনিং ওয়াল তৈরির জন্য, সূত্রের খবর এমনটাই। ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা অবশ্য জানিয়েছেন, বৃহত্তর স্বার্থে নিজের বাড়ি ‘চিত্রালয়’-এর বিসর্জন দিতে তিনি প্রস্তুত।
ঘাটাল শহরের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে শিলাবতী নদী। এই নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্কিট বাঁধ বা রিটেইনিং ওয়াল গড়ে তোলা হবে। সে জন্য নদীর পাড় থেকে প্রায় ৬০ ফুট জমি নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, মাস্টার প্ল্যান মনিটরিং কমিটি সূত্রে খবর এমনটাই। ঘাটালের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণনগর থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীরামপুর পর্যন্ত হবে এই রিটেইনিং ওয়াল বা সার্কিট বাঁধ। সে জন্য নদীর পাড়ে থাকা সরকারি জমি থেকে রায়ত জমিও নিতে হতে পারে সরকারকে। ইতিমধ্যেই মাপ শুরু হয়েছে। কোন কোন বাড়ি, দোকান নেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যাঁরা রায়ত জায়গার উপর বাড়ি তৈরি করে রয়েছেন তাঁদের থেকে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে সেক্ষেত্রে জায়গা কিনবে সরকার। তবে নদীর পাড়ে সরকারি জায়গার উপরে যে হাজারখানেক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকেই।
ঘাটালের পুরপ্রধান তুহিনকান্তি বেরা অবশ্য বলেন, ‘আমি আমার বাড়ি দিতে প্রস্তুত। কারণ আমাদের মতো জনপ্রতিনিধি এবং শাসকদলের সৈনিকরাই যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে মেদিনীপুরবাসীর জন্য ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের রূপায়ণ কী ভাবে সম্ভব? সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আমি আবেদন করব।’
এ দিকে এই সম্ভাবনায় মন খারাপ তুহিনকান্তির স্ত্রী সুতপা বেরার। তিনি বলেন, ‘কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। তবুও বৃহত্তর স্বার্থে, ঘাটালবাসীকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে এই আত্মত্যাগ আমাদের করতেই হবে।’ তাঁদের আর কোথাও বাড়ি বা জায়গা নেই বলে জানান সুতপা। ঘাটালের মহকুমাশাসক তথা মাস্টার প্ল্যান মনিটরিং কমিটির অন্যতম সদস্য সুমন বিশ্বাস অবশ্য বলেন, ‘এখনও অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোনও প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মাপ করা হয়েছে। উপযুক্ত মূল্য দিয়েই সরকার জায়গা কিনবে।’ যাঁরা সরকারি জায়গার উপর ব্যবসা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার, জানান পুরপ্রধান এবং মহকুমা শাসক।
(তথ্য সহায়তা মণিরাজ ঘোষ)