আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কলেজ’ শব্দ রাখার আর্জি, বিধায়কের দ্বারস্থ শিক্ষাসেল
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ২০১৮ সালে বিধানসভায় আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাশ হওয়ার পর আলিপুরদুয়ার কলেজ নামটির অবলুপ্তি ঘটেছে। কিন্তু শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমিক শিক্ষাসেলের দাবি, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও এলাকার মানুষের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে আলিপুরদুয়ার কলেজ নামটি তুলে দেওয়া যাবে না। ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে আলিপুরদুয়ার কলেজ নামটি রাখতে হবে। এই দাবিতে শাসকদলের শিক্ষক সংগঠন বিধায়ক তথা বিধানসভায় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলালের কাছে দাবিপত্র পাঠিয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষাসেলের দাবি, জেলায় এখন ১০টি কলেজ। একমাত্র আলিপুরদুয়ার কলেজ ছাড়া আর কোনও কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স পড়ার সুযোগ নেই। তাহলে মে মাসে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আগ্রহী পড়ুয়ারা স্নাতক স্তরে কথায় ভর্তি হবেন? বিধায়ককে দেওয়া দাবিপত্রে এনিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে শিক্ষাসেল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি ভাস্কর মজুমদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুসারে আলিপুরদুয়ার কলেজ নামটি থাকছে না। উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হলে স্নাতকে বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স নিয়ে পড়তে আগ্রহী পড়ুয়ারা কোন কলেজে ভর্তি হবেন? তাঁরা যাবেন কোথায়? কারণ আলিপুরদুয়ার কলেজ ছাড়া জেলার অন্য কোনও কলেজে তো স্নাতকে বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স পড়ার সুযোগ নেই। সেজন্য আমরা দাবি করছি সংযুক্ত কলেজ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আলিপুরদুয়ার কলেজটি থাক। সেই আর্জি জানিয়েই সংগঠনের পক্ষ থেকে বিধায়ককে সরাসরি দাবিপত্র দেওয়া হয়েছে। যদিও আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরিৎকুমার চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট মোতাবেক আলিপুরদুয়ার কলেজের অবলুপ্তি হয়েছে। কলেজ না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তো গ্রাজুয়েশন কোর্স থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফলে এনিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার কলেজে পাঠরত আন্ডার গ্রাজুয়েশনের পড়ুয়ারা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা শেষ ব্যাচ। মে মাসে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর আন্ডার গ্রাজুয়েশনে যাঁরা ভর্তি হবেন, সেই পড়ুয়ারা আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকবেন।
তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের ওই দাবির বিষয়ে বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমি শিক্ষামন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরে কথা বলেছি। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।
প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ার কলেজেই অস্থায়ীভাবে চলছে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন। এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের কাজ শুরু হয়নি। আলিপুরদুয়ার কলেজটি এখনও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই আছে।