সিকিম থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরল কিশোরী, নিরুদ্দেশ বোন, ধৃত বৃদ্ধ
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: দুই বোনকে মোটা বেতনের কাজের টোপ দিয়ে সিকিমে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। গত সোমবার কোনওভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে মাদারিহাটের বাড়ি ফিরে এই কথা জানিয়েছে তাদের মধ্যে এক কিশোরী। তবে তার বোন কোথায়, সেটা বলতে পারেনি সে। সিকিমের অভিযুক্ত বৃদ্ধ চন্দ্রবাহাদুর থাপা যে নারী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত, তা বুঝতে বেশি দেরি হয়নি পুলিসের। সোমবার জেলা পুলিসের বিশেষ টিম দক্ষিণ সিকিমের মেল্লিবাজার থানার আপার সুনতেলের উদ্দেশে রওনা দেয়। বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার সাতসকালে আলিপুরদুয়ারে এসে পৌঁছয় তারা। ধৃত বৃদ্ধকে আলিপুরদুয়ার আদালতে তুলে পুলিস সাতদিনের রিমান্ডে নিয়েছে। জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে ১৬বছরের নাবালিকাটির মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদারিহাটের এক চা শ্রমিক পরিবারের সঙ্গে মিষ্টি মিষ্টি কথায় ভাব জমিয়েছিল দক্ষিণ সিকিমের মেল্লিবাজার থানার আপার সুনতেলের ৬২বছরের চন্দ্রবাহাদুর থাপা। সখ্যতাও গড়ে তুলেছিল। ১২ এবং ১৬বছরের দুই নাবালিকাকে ভালো খাবার ও পোশাক উপহার দিয়ে তাদের বিশ্বাস আদায় করে নিয়েছিল সে। এরপর সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোটা বেতনের কাজের টোপ দিয়ে দুই নাবালিকাকে ৩মার্চ সিকিমে নিয়ে যায় বৃদ্ধ। তারপর থেকে খোঁজ নেই সেই দুই নাবালিকার। পরে জানা যায়, বৃদ্ধের দেওয়া ফোন নম্বরটিও ভুঁয়ো। বাধ্য হয়ে শ্রমিক পরিবারটি ১৮ মার্চ মাদারিহাট থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে। কিন্ত, তদন্তে নেমে ঘোল খেতে হয় পুলিসকে। তবে শেষ পর্যন্ত মুশকিল আসান হয় গত সোমবার ১৬ বছরের কিশোরী নিজেই বাড়ি ফিরে আসায়। পুলিস জানতে পারে, ওই কিশোরীকে সিকিমে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বৃদ্ধ দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল। নাবালিকাটি কোনওভাবে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হয়। কিন্তু বোন কোথায়, সে জানে না। নাবালিকার এই বয়ান পেয়ে তাজ্জব হয়ে যান তদন্তকারী পুলিস অফিসাররা। পুলিসের অনুমাণ, ১২ বছরের নাবালিকাটিকে বৃদ্ধ হয়তো নারী পাচারচক্রের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে। পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, বৃদ্ধকে আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ নাবালিকাটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।