লাল চন্দন চাষে সাফল্য,‘সাকসেস স্টোরি’ হিসেবে প্রচার আয়ুষ মন্ত্রকের
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৫
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: লাল চন্দন,রক্ত চন্দন বা রঞ্জনা। মহা মূল্যবান এই গাছের আধিক্য মূলত দক্ষিণ ভারতেই। দস্যু বীরাপ্পান চন্দন কাঠ পাচারের কাজই করত। পুষ্পা ছবিতেও উঠে এসেছে এই লালা চন্দন গাছের চোরাচালানের কাহিনি। সেই গাছেরই বাগান তৈরি হয়েছে নদীয়া জেলায়। হয়েছেকেন্দ্র সরকারের আয়ুষ মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে। পূর্ব ভারতের ছ’টি রাজ্যের মধ্যে নদীয়া জেলার হাঁসখালি ব্লকের বেতনা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামেই লাল চন্দনের বাগান তৈরি করা হয়েছে। সাফল্যও এসেছে। নদীয়া জেলায় লাল চন্দন গাছের চাষকে ‘সাকসেস স্টোরি’ হিসেবে তুলে ধরেছে আয়ুষ মন্ত্রক। আগামী দিনে তা মডেল হিসেবে তুলে ধরা হবে।
এই প্রজেক্টের কো অর্ডিনেটর অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ‘লাল চন্দন গাছ কম পাওয়া যায়। আয়ুষ মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দিয়ে এই বাগান তৈরি করা হয়েছে। পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার এই বাগানকে কেন্দ্র সরকার মডেল বাগানের স্বীকৃতি দিয়েছে।
২০১৯-২০ সাল নাগাদ এই লাল চন্দনের বাগান তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। নদীয়ার বাসিন্দা অভিজিৎ ঘোষ, প্রথমে ৩৬টি লাল চন্দন এবং ২টি সাদা চন্দন গাছ আয়ুষ মন্ত্রকের ন্যাশনাল মেডিসিনাল প্ল্যান্টের আওতায় থাকা পূর্বাঞ্চল রিজিওনাল কাম ফেলিসিটেশন সেন্টার থেকে সংগ্রহ করেন। দু’ বছরের মধ্যে দেখা যায় যে, সাদা চন্দন গাছ সেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কিন্তু লাল চন্দন গাছ ভালোই বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতেই বোঝা যায়, লাল চন্দন গাছের জন্য মাটিতে যে উপকরণের প্রয়োজন পড়ে তা নদীয়ায় রয়েছে। তারপর রিজিওনাল কাম ফেলিসিটেশন সেন্টারের তরফে পূর্ব ভারতের মধ্যে একমাত্র নদীয়া জেলার হাঁসখালির এই লাল চন্দনের বাগানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেইমতো লাল চন্দনের চারা তৈরির জন্য হাঁসখালিতে ডেডিকেটেড নার্সারি তৈরি করা হয় আয়ুষ মন্ত্রকের তরফে। সেখানে দক্ষিণ ভারত থেকে ৪ হাজার উচ্চমানের লাল চন্দন গাছের বীজ আনা হয়। হাঁসখালির নার্সারিতে তা থেকে চারা তৈরি করে রোপণ করা হয়। সেই কাজে আয়ুষ মন্ত্রকের আরসিএফসি’র তরফে সমস্তরকম সহযোগিতা করা হয়। সেই চাষের কাজের জন্য নেওয়া হয় নদীয়া ডিস্ট্রিক্ট মেডিসিনাল ফার্মার ক্লাস্টারের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। মোট ২৭০০টি লাল চন্দনের চারা নদীয়া জেলাজুড়ে রোপণ করা হয়। যার মধ্যে প্রায় ১৫০০টি চারা দিয়ে পাঁচ একর জমিতে লাল চন্দনের বাগান তৈরি হয়েছে হাঁসখাল ব্লকের বেতনা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। আগামী দিনে এই প্রজেক্টকে দেশজুড়ে লাল চন্দনের বাগান তৈরির মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হবে, বলে জানা গিয়েছে।
লাল চন্দন গাছ হল ভেষজ উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। গাছের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই চাষিদের কাছে লাল চন্দনের চাষ অত্যন্ত লাভদায়ক। যার জন্য পাচারকারীদের নজর থাকে এই গাছের উপর। লাল চন্দন ‘এনডেমিক স্পিসিস’। অর্থাৎ এই গাছ একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন দক্ষিণ ভারতে এই গাছ ভালো জন্মায়। কিন্তু এবার পূর্ব ভারতেও লাল চন্দনের বাগান তৈরি হল। অদূর ভবিষ্যতে এই জেলাতেও লাল চন্দন লাভদায়ক ফসল হয়ে উঠতে পারে। -নিজস্ব চিত্র