• মাসে দুই শুক্রবার নব দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনার কাউন্সেলিং
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় প্রতিমাসের প্রথম ও তৃতীয় শুক্রবার নব দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বোঝানো হচ্ছে। মূলত জেলায় নাবালিকা অন্তসত্ত্বার সংখ্যা কমানোই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। দম্পতিদের পাশাপাশি তাদের বাড়ির লোককেও পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আশাকর্মী ও এএমএম কর্মীরা এই কাজ করছেন। নদীয়া জেলায় নাবালিকা অন্তসত্ত্বার সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি একশো প্রসূতির মধ্যে ২০ শতাংশ মায়ের বয়স আঠারো বছরের নীচে। 

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাপড়া, কালীগঞ্জ, করিমপুর-১, করিমপুর-২, কৃষ্ণনগর-২, নবদ্বীপ, নাকাশিপাড়া, তেহট্ট-২ —এই আটটি ব্লককে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে কালীগঞ্জ ব্লক ও করিমপুর-২ ব্লকে নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে মোট প্রসূতির ২৭ শতাংশই নাবালিকা। এছাড়াও করিমপুর-১ ব্লকে ২৫ শতাংশ, নাকাশিপাড়া ব্লকের ২৬ শতাংশ প্রসূতির বয়স আঠারোর নীচে। নদীয়া জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ রঞ্জিত দাস বলেন, নাবালিকাদের অন্তসত্ত্বা হওয়ার প্রবণতা কমাতে আমরা লাগাতার কাজ করছি। প্রতিমাসের প্রথম ও তৃতীয় শুক্রবার নবদম্পতিদের কাউন্সেলিং করাচ্ছি। 

    উল্লেখ্য, গ্রামের কোন মহিলা গর্ভধারণ করছেন তার খবর থাকে আশাকর্মীদের কাছে। গর্ভবতী মায়েদের দেখাশোনা, তাঁদের খেয়াল রাখা সহ বিভিন্ন কাজ আশাকর্মীরা করে থাকেন।‌ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও চিকিৎসার জন্য আসতে হয় গর্ভবতী মাকে। তাই কোন প্রসূতির বয়স আঠারোর নীচে তা জানা খুব একটা কঠিন হয় না আশাকর্মীদের। কিন্তু চিকিৎসকদের দাবি, আঠারো বছরের আগে গর্ভধারণ করা মা ও বাচ্চা উভয়ের পক্ষেই বিপজ্জনক।‌‌ তাই দম্পতিদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করেন চিকিৎসকরা। তারই পাঠ দিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। 

    নাবালিকাদের অন্তসত্ত্বা হওয়ার প্রবণতার পিছনে অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ। স্কুল জীবন শেষ হওয়ার আগেই সংসার জীবন শুরু হয়ে যাচ্ছে নাবালিকাদের। মূলত গ্রামীণ এলাকার মানুষের আর্থিক অসহায়তা এই সমস্যার মূল কারণ। নদীয়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় হামেশাই বাল্যবিবাহ হয়। নাবালিকা বিয়ে আটকাতে প্রতি পঞ্চায়েতে বিশেষ কমিটি তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। গ্রাম সংসদ, গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক স্তরে এই কমিটি রয়েছে। ব্লকের বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, স্কুল শিক্ষকদের নিয়ে চাইল্ড প্রোটেকশন কমিটি রয়েছে। এবার সেই কমিটিতে স্থানীয় ডেকরেটর, ক্যাটারারদেরও যুক্ত করা হয়েছে। যাতে তাঁদের মাধ্যমে দ্রুত নাবালিকা বিয়ের খবর পাওয়া যায় এবং প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারে।
  • Link to this news (বর্তমান)