সংবাদদাতা, কাঁথি: নীল সরস্বতীর পুজো উপলক্ষ্যে একগুচ্ছ অনুষ্ঠান ঘিরে আনন্দোৎসবে মেতে উঠেছেন এগরার বাসিন্দারা। এগরা শহরের ১১নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর নবযুবক সঙ্ঘের পরিচালনায় ৩১তম বর্ষের সর্বজনীন শ্রীশ্রী নীল সরস্বতী পুজো মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে চারদিন ধরে নানা অনুষ্ঠান ও সামাজিক কর্মসূচিতে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ সহ এলাকার পরিবেশ জমজমাট।
নবযুবক সঙ্ঘ প্রতিবছর নীল সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জগন্নাথপুর পুরাতন পুকুরপাড়ে পুজোর আয়োজন হয়েছে। মঙ্গলবার পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপনকুমার নায়ক, ভাইস-চেয়ারম্যান সোমা চক্রবর্তী সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটোত্তোলন ও দেবীর পূজার্চনা হয়। মঞ্চে জগন্নাথপুর প্রান্তিক পাঠদান কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। বুধবার মহাপ্রভুর আগমন উপলক্ষে হরিনাম সংকীর্তনের সূচনা হবে। ১০৮টি মহাপ্রভুর বিগ্রহ সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় পুরুষ ও মহিলাদের সুসজ্জিত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এলাকা পরিক্রমা করবে। রাতে সন্ধ্যারতি ও বাউল গান পরিবেশন হবে। বৃহস্পতিবার নরনারায়ণ সেবা অর্থাৎ কয়েকহাজার মানুষকে মহাপ্রভুর অন্নপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। শুক্রবার রক্তদান ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় শিবির হবে। চারদিন ধরেই বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চলবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গুণীজন ও বিশিষ্টদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ হবে। রাতে বিচিত্রানুষ্ঠানে বাবাই চক্রবর্তী সহ অন্য শিল্পীরা মঞ্চ মাতাবেন। দেবীপ্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপও দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে।
পুজোপ্রাঙ্গণ আলোকমালায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে।নবযুবক সঙ্ঘের সদস্যসংখ্যা ৬৭। সম্পাদক প্রণব গিরি, সহ-সম্পাদক অজয় সাউ, সভাপতি রবীন্দ্র মালি, সহ-সভাপতি তপন দুয়ারী, কোষাধ্যক্ষ রবীন্দ্র গিরি সহ প্রত্যেক সদস্যই পুজো ও সমস্ত অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সবার সহযোগিতায় সর্বাঙ্গসুন্দর হয়ে ওঠে পুজো। সঙ্ঘের অন্যতম সদস্য তথা জগন্নাথপুর প্রান্তিক পাঠদান কেন্দ্রের কর্ণধার ভোলানাথ মাজি বলেন, আমরা পুজো ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়া ও তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। বছরের অন্য সময়েও নানা সামাজিক কর্মসূচি হয়।-নিজস্ব চিত্র