• অবৈধ হোর্ডিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি দক্ষিণ দমদমে
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অবৈধ হোর্ডিংগুলিকে চিহ্নিত করা হলেও সেই সমস্ত সংস্থাকে নোটিস দেওয়া হয়নি। আবার বেআইনিভাবে হোর্ডিং লাগানোর অভিযোগে পুরসভার নোটিস হাতে পেয়েও পুরকর দেয়নি, এমন সংস্থার সংখ্যা অনেক। কেন এইসব সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুরসভা, তা নিয়ে সরগরম দক্ষিণ দমদম। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক কাউন্সিলার। তাঁরা লিখিতভাবে চিঠিও দিয়েছেন পুরসভাকে। তাঁদের দাবি, বেআইনি হোর্ডিংয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে দক্ষিণ দমদম পুরসভার আয় অনায়াসে এক কোটি টাকা বাড়বে।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দমদম রোড, যশোর রোড, ভিআইপি রোড, লেকটাউন, বাঙ্গুর, সাতগাছি, নাগেরবাজার সহ বিভিন্ন জায়গা বেআইনি হোর্ডিংয়ে বিজ্ঞাপনে ঢেকে গিয়েছে। রাস্তার ডিভাইডারও ছাড় পায়নি। গোটা শহর বিজ্ঞাপনে ছয়লাপ হলেও সেই অর্থে লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে না পুরসভার। পরিসংখ্যান বলছে, গত দশ বছরের মধ্যে এবারই হোর্ডিং থেকে পুরসভার আয় সর্বোচ্চ। গত এক বছর ধরে হোর্ডিং নিয়ে নানা বিতর্ক শুরু হওয়ায় পুরসভা কিছুটা হলেও কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৪-’১৫ অর্থবর্ষে পুরসভার এই খাতে আয় হয়েছিল ২২ লক্ষ ৩২ হাজার ৪৯৩ টাকা। এর পরের অর্থবর্ষ থেকে দক্ষিণ দমদম এলাকায় বিজ্ঞাপনের বহর বাড়লেও আয় ক্রমশ কমতে শুরু করে। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে এই খাতে আয় হয় ১৫ লক্ষ ২২ হাজার ৭৬৮ টাকা। ২০২৩-’২৪ সালে একটু বেড়ে তা হয় ১৭ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৮৪ টাকা। তবে ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে হোর্ডিং বাবদ আয় প্রায় তিণগুন বেড়ে হয়েছে ৫৪ লক্ষ টাকা। 

    পুরসভা সম্প্রতি সমীক্ষা করে জানিয়েছিল, পুর এলাকায় মোট ২৯৫টি হোর্ডিং রয়েছে। তার মধ্যে বৈধ হোর্ডিংয়ের সংখ্যা ১২৫টি। বাকি ১৭০টি অবৈধ। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি হোর্ডিংই বেআইনি। এই সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাউন্সিলাররা বলেছিলেন, যা দেখানো হয়েছে, তার তুলনায় হোর্ডিংয়ের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।

    অবৈধ হোর্ডিংগুলির মধ্যে পুরসভা ৫৭টি সংস্থাকে নোটিস দিয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৭টি সংস্থা পুরসভায় কর জমা দিয়েছে। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের বাজেট প্রস্তাবে পুরসভা হোর্ডিং খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে ৫০ লক্ষ টাকা। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবর্ষে যেখানে ৫৪ লক্ষ টাকা আয় হয়েছিল, সেখানে লক্ষ্যমাত্রা চার লক্ষ টাকা কম করা হল কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এই বিষয়ে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত বলেন, অ্যাকাউন্টস বিভাগ ও ভিউ ট্যাক্স আদায় করা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। এবার হোর্ডিং থেকে রেকর্ড ৫৪ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। আগামী অর্থবর্ষে এই আয় আরও কয়েকগুণ বাড়বে। বাজেট বৈঠকের পর বোর্ড মিটিংয়ে এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অবৈধ হোর্ডিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)