রাতে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে পার্টি, সকালেই উদ্ধার বার ডান্সারের মৃতদেহ
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ভিতরে দুম দুম শব্দ। যেন কেউ দরজা ভাঙছে। ভেসে আসছে কান্নার আওয়াজ। আবাসিকদের থেকে খবর পেয়ে ফ্ল্যাটে পৌঁছয় বাগুইআটি থানার পুলিস। দরজা ভেঙে ঢুকতেই চোখ কপালে! মেঝেয় বসে কাঁদছেন এক যুবক। উপরে ঝুলছে তরুণীর মৃতদেহ! সময় গড়াতেই জট খুলল রহস্যের। তরুণী ছিলেন পেশায় বার ডান্সার। যুবক তাঁর বয়ফ্রেন্ড। লিভ-ইনে ছিলেন তাঁরা। সোমবার রাতে ফ্ল্যাটে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে জন্মদিনের পার্টি করেছিলেন যুবতী। রাতভর খাওয়া, সঙ্গে মদ্যপান। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল হতেই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। মৃত্যুর সঠিক কারণ? জানা যায়নি। বিবাহবিচ্ছিন্না মা প্রয়াত। তাই বাবা জীবিত থাকলেও রাত পর্যন্ত মেয়ের দেহ নেননি। ওই তরুণী এখন আর জি কর হাসপাতালের ‘বেওয়ারিশ লাশ’!
পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম মনীষা রায় (২৪)। বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরের একটি আবাসনে থাকতেন। ওড়িশায় বার ডান্সারের কাজ করতেন। সেই সূত্রে ওড়িশারই এক যুবকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দেশবন্ধুনগরে প্রায় আড়াই বছর আগে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন মনীষা। বয়ফ্রেন্ডকে নিয়েই তিনি ওই ফ্ল্যাটে এসে থাকতেন। আবার ফিরে যেতেন ওড়িশায়। মৃতদেহ উদ্ধারের পর রহস্য দানা বাঁধে। বয়ফ্রেন্ডকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিস। দেহ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। প্রাথমিকভাবে পুলিস মনে করছে, তরুণী আত্মঘাতী হয়েছেন। তাই খুন নয়, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেই শুরু হয়েছে তদন্ত।
বয়ফ্রেন্ড জেরায় পুলিসকে জানিয়েছে, সোমবার রাতে ফ্ল্যাটে মনীষার জন্মদিনের পার্টি ছিল। মদ্যপান করেছিলেন দু’জনেই। মনীষা বেডরুমে শুতে গিয়েছিলেন। ভিতর থেকে লক করে দিয়েছিলেন দরজা। নেশায় ঝিমিয়ে বয়ফ্রেন্ড শুয়ে পড়েছিলেন ড্রয়িংরুমেই। সকাল হওয়ার পর তাঁর ঘুম ভাঙে। মনীষাকে ডাকেন। কিন্তু ভিতর থেকে সাড়া না পেয়ে তিনি বেডরুমের দরজায় সজোরে ধাক্কা দেন। সেই শব্দই কানে যায় আবাসিকদের। বেডরুমের দরজা ভেঙেও যায়। তখন দেখেন, মনীষার মৃতদেহ ঝুলছে। তিনি ফ্ল্যাটের বাইরে বের হতে পারেননি। কারণ, তরুণীর কাছেই ছিল ফ্ল্যাটের মূল গেটের চাবি। সেই চাবি তিনি খুঁজে পাননি। তাই বাধ্য হয়েই প্রেমিকার মৃতদেহের নীচে বসে কাঁদছিলেন যুবক।
মনীষা ডিভোর্সি। পুরনো স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিস তাঁর বাবার নাম জানতে পারেন। তিনি বাগুইআটির প্রোমোটার। কিছুদিন আগে তিনি এক নেতার অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মৃতদেহ নেওয়ার জন্য তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। তিনি পুলিসকে জানান, মনীষা তাঁরই মেয়ে। কিন্তু, ১৬ বছর আগে প্রথমপক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। তারপর কোনও যোগাযোগই ছিল না। মৃতদেহ নেব বললেও রাত পর্যন্ত তিনি দেহ নেননি!