মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ইদের নিমন্ত্রণে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় ফিরহাদের বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ইদের দিন ফিরহাদের বাড়িতে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমাগম হয়েছিল। তবে ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল অভিষেকের উপস্থিতি। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিচুতলার কর্মীদের বার্তা দিতেই ফের একই অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে ববি ও অভিষেককে।
পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্কের অবনতির খবর একাধিকবার খবরের শিরোনামে এসেছে। ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি চালু করার পক্ষে সওয়াল করে অভিষেক ফিরহাদের মতো নেতাকেই বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মত দলের একাংশের। আবার অন্যদিকে ফিরহাদের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তর। শহরের পার্কিং ফি বৃদ্ধি নিয়ে কলকাতা পুরসভার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন অভিষেকের অনুগামীরা। এই সব নিয়ে প্রায়ই চর্চা হয় দলের অন্দরে। এই ‘দ্বন্দ্ব’ প্রকাশ্যে চলে আসায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার ফিরহাদের নিমন্ত্রণে অভিষেকের উপস্থিতির পর মনে করা হচ্ছে, দলের প্রয়োজনে অভিষেক ও ফিরহাদের সম্পর্কের উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সব রকম দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে দল। উচ্চ নেতৃত্বের তরফে এই বার্তা প্রকাশ্যে এলে তা নিচুতলার কর্মীদের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার ফিরহাদের বাড়িতে অভিষেক ছাড়াও আরও অনেক নেতা-মন্ত্রী উপস্থিত হয়েছিলেন। তালিকায় ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সহ অন্যরা। এদিন সুব্রত বক্সীর পাশেই বসে থাকতে দেখা যায় অভিষেককে। সুব্রত, ফিরহাদ মূলত মমতা ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবেই পরিচিত। তৃণমূল নেতাদের দাবি, কয়েকটি বিষয়ে অভিষেকের সঙ্গে এই সব নেতাদের মতের অমিল হলেও তাঁদের মধ্যে কখনই দূরত্ব তৈরি হয়নি। ফিরহাদের বাড়িতে অভিষেকের উপস্থিতি তা প্রমাণ করে দিয়েছে। তৃণমূলের একাংশ মনে করছেন, ফিরহাদ হাকিমের নিমন্ত্রণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হতে পারেননি। সেই কারণে তিনি হয়তো অভিষেককে পাঠিয়েছেন।