অতিরিক্ত রোজগারের নেশায় সমকামিতা অভিযুক্ত সাদ্দামের! দু’ঘণ্টায় দর ৫ হাজার! চারু মার্কেট কাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য
প্রতিদিন | ০২ এপ্রিল ২০২৫
অর্ণব আইচ: ঘণ্টা দু’য়েকের ঘনিষ্ঠতা। তার জন্য চারু মার্কেটের আবাসনের ফ্ল্যাটের পরিচারকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিল তার সমকামী ‘বন্ধু’ সাদ্দাম আলম। কিন্তু ঘনিষ্ঠতার শেষে গাড়িভাড়ার সামান্য টাকা নিয়ে সাদ্দামকে চলে যেতে বলেন পরিচারক অবিনাশ। অথচ পার্ক স্ট্রিটের নামী হোটেলের প্রাক্তন ওয়েটার সাদ্দাম সপ্তাহের শেষে নির্ভর করে ছিল তার সেই অতিরিক্ত উপার্জনের উপর। স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সাদ্দাম অতিরিক্ত টাকা রোজগারের জন্য বেছে নিয়েছিল সমকামিতাকেই। স্বামী যে সমকামী, কড়েয়ার বাসিন্দা সাদ্দামের স্ত্রী তা জানতেনও না। ওই টাকা না পেয়েই চারু মার্কেটের পরিচারক অবিনাশ বাউড়িকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে সাদ্দাম। ধৃত সাদ্দামকে জেরা করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
গত শনিবার চারু মার্কেট এলাকার একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় পরিচারক অবিনাশের রক্তাক্ত দেহ। লালবাজারের এক কর্তা জানান, দেহ উদ্ধারের পর থেকেই অভিযুক্তর সন্ধান চালাতে শুরু করেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। তাঁরাই চারু মার্কেট থানার আধিকারিকদের নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত সাদ্দামের সন্ধান পান। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, যে সমকামী ডেটিং অ্যাপে সাদ্দামের সঙ্গে অবিনাশের যোগাযোগ হয়, সেই অ্যাপের সদস্য পরিচারক অবিনাশ ছিলেন না। অন্য এক সমকামী বন্ধুর মাধ্যমে অবিনাশ ডেটিং অ্যাপে নিজের চাহিদা জানান। ওই বন্ধুটি তার বদলে কমিশনও দাবি করেন। অবিনাশের চাহিদা ছিল সুঠাম চেহারার ২৫ থেকে ৩০ বছরের যুবক। সঙ্গে দেওয়া ছিল অবিনাশের মোবাইল নম্বর। অ্যাপের সদস্য সাদ্দাম অবিনাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মোবাইলে দু’জনের মধ্যে পরিচয়ের পর দরাদরিও হয়। দরাদরির পর ঘণ্টা দু’য়েকের ঘনিষ্ঠতার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানায় সাদ্দাম। তাতে রাজি হন অবিনাশ। অবিনাশের মালিক কুশল ছাবরা যখন অফিসে, তখন দুপুরে সাদ্দামকে ডেকে নিয়ে আসেন অবিনাশ। ঘনিষ্ঠতর শেষে চাহিদামতো পাঁচ হাজার টাকা চাইলে অবিনাশ জানান, এখন গাড়ি ভাড়া বাবদ কিছু টাকা নিতে। বাকি টাকা পরে মিটিয়ে দেবেন তিনি। এই প্রস্তাবে নারাজ সাদ্দামের সঙ্গে অবিনাশের বচসা বাধে। রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে অবিনাশকে কুপিয়ে খুন করে সাদ্দাম।
বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী দেখেছিলেন যে, দুই ‘বন্ধু’ একসঙ্গে ঢুকলেও একা বেরিয়ে যাচ্ছে অবিনাশের সেই ‘বন্ধু’টি। নিরাপত্তারক্ষীকে জেরা করে লালবাজারের গোয়েন্দারা সাদ্দামের চেহারার বর্ণনা পান। ঘটনার পর পুরনো সিমকার্ড ফেলে নতুন সিম ব্যবহার করতে থাকে সে। পুরনো নম্বরের সূত্র ধরে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত যুবক দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের মল্লিকপুরের বাসিন্দা। সেখানে গিয়েই তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার হয় সাদ্দাম। ওই যুবক যে সমকামী ও সেটা তার অতিরিক্ত রোজগারের উপায়, বিষয়টি জানতে পেরে হতবাক সাদ্দামের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।