• যাদের টাকা খাইয়েছিল তারা কেউ তো এল না!
    এই সময় | ০২ এপ্রিল ২০২৫
  • কুশময় ভান্ডারী

    (কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিকের পিসেমশাই)

    আমার কথা যদি শুনত, তা হলে কি আজ এই পরিণাম হতো? দশ বছর ধরে শ্বশুরবাড়িতে এলেই বড় শ্যালক অরবিন্দ বণিককে (চন্দ্রকান্তের বাবা) বলতাম, কেন আপনার বড় ছেলে এমন বেআইনি কাজ করছে? তখন সবেমাত্র লুকিয়ে চুরিয়ে বাজি তৈরির কাজ শুরু করেছিল চন্দ্রকান্ত। প্রথম প্রথম ভাবতাম, পুজোর জন্য হয়তো এই বাজি তৈরি করছে। পরে জানতে পারি এই বাজি তৈরি করে চন্দ্রকান্ত ব্যবসা শুরু করেছিল। ভালো আয়ও হচ্ছিল। ওর বেআইনি কারবার আমি মেনে নিতে পারিনি। ফলে আমার উপর বেজায় চটে ছিল ছেলেটা।

    আমি মূর্খ মানুষ। ব্যবসার ঘোরপ্যাঁচ বুঝি না। কিন্তু একদিন আমি আর ওর বাবা চন্দ্রকান্তকে সৎ পথে ইনকামের কথা বলেছিলাম। আমার কথা না শোনার পর থেকে আমি আর ওদের দিকে তাকাইনি। ওদের বাড়িতেও খুব বেশি যেতাম না। ২০২২ সালের অক্টোবরে আচমকা পুলিশ এসে বাড়ি থেকে চন্দ্রকান্তকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যায়। তখন ওর ব্যবসার বেআইনি বাজিও বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। বেশ কিছুদিন জেল খাটতে হয়েছিল তাকে। ‌‌‌‌‌

    জেল খেটে বেরনোর পর ভাই তুষারকে সঙ্গে নিয়ে আবারও ব্যবসা শুরু করে চন্দ্রকান্ত। তখন আমাকে বলেছিল লাইসেন্স করে ব্যবসা করছে। গত তিন বছরে দুই ভাইয়ের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠল। আগে ওদের বাজি ঢোলাহাট ও পাথরপ্রতিমা এলাকায় পাইকারিতে বিক্রি করতো। বর্তমানে রায়দিঘি, মথুরাপুর, মন্দিরবাজার, লক্ষীকান্তপুর, কাকদ্বীপ ও নামখানা এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল ওদের বাজি।

    শাসকদলের নেতা থেকে পুলিশ সকলেই ওদের বাড়িতে আসত। চন্দ্রকান্ত বলত, সকলকে টাকা দিতে হতো। মাঝে মধ্যে খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন হত ওদের বাড়িতে। সেখানে আসা যাওয়া করতে অনেককেই আমি দেখেছি। আজ এত বড় বিপদের দিনে তাদের কেউ অসহায় পরিবারটার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। আজ যদি আমার মতো মূর্খ মানুষের সৎ উপদেশটা নিত, তাহলে এ ভাবে পরিবারটা শেষ হয়ে যেত না।

  • Link to this news (এই সময়)