বহরমপুর পুরসভা পরিচালিত প্রাথমিক স্কুলের দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পকসো আইনে দায়ের করা মামলা গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ দুই শিক্ষিকা। একই সঙ্গে দাবি, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে তাঁদের। পুলিশের কাছে কেস ডায়েরি তলব করেছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তা আদালতে পেশ করতে হবে।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে পুরসভা পরিচালিত অবৈতনিক দুই প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়াদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠে দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। দুই স্কুলের দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধেই ওঠে পড়ুয়াদের গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া ও তা দেখাতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। বহরমপুর থানায় যৌন হেনস্থার অভিযোগে ওই দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পকসো আইনের ধারা-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।। এই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই বহরমপুর পুরসভা ওই দুই শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করে এবং বেতন বন্ধের পদক্ষেপ নেয়।
এই ঘটনায় উঠে আসছে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার কারণেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকী, প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীও সেই অভিযোগকে সমর্থন করেছিলেন। উল্লেখ্য, আগেও বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগ তুলে পুরসভার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ওই দুই শিক্ষিকা। আদালতের রায়ে পুর কর্তৃপক্ষ তাঁদের বকেয়া মেটাতে বাধ্য হন। সেই মামলার ফয়সালা হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে।
এ দিন কলকাতা হাইকোর্টে শুনানিতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকার আইনজীবীর দাবি শুনে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পুলিশকে কেস ডায়েরি দেখানোর নির্দেশ দেন। কারণ, আদালত মনে করছে, দুটি মামলাতেই যে বয়ান ও অভিযোগ সামনে এসেছে, তাতে তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে কি না, সেটা কেস ডায়রি দেখে নিশ্চিত হতে হবে। ১০ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি।