অর্ঘ্য বিশ্বাস ■ ময়নাগুড়ি
দুপুরে গনগনে রোদ। বৃষ্টিরও দেখা নেই। তার মধ্যেই শুকনো ঝরাপাতায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন জঙ্গলের ভিতরে ঢোকা মানুষজন। আর যত্রতত্র সেই আগুনের জেরে নিজেদের নিশ্চিন্ত আশ্রয় ছেড়ে লোকালয়ে, রাজপথে বেরিয়ে পড়ছে হাতি। গোটা পরিস্থিতিতে বেজায় সমস্যায় উত্তরবঙ্গ, বিশেষত ডুয়ার্স। দ্রুত আগুন সামলানোর উপযোগী উন্নত পরিকাঠামোর অভাবে রীতিমতো সমস্যায় বন দপ্তরও। দিন–রাত এক করে কাজ করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কালঘাম ছুটছে বনকর্মীদের। তার মধ্যেই হাতি বেরিয়ে পড়ার ঘটনায় দিশেহারা বন দপ্তর। মঙ্গলবারও চাপড়ামাড়ির কাছে একই ঘটনা ঘটেছে।
গত কয়েকদিনে বৈকুন্ঠপুর ও জলপাইগুড়ি বনবিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জের বনাঞ্চলে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৈকুন্ঠপুর বনবিভাগের তারঘেরা, আপালচাঁদয, আমবাড়ি, বেলাকোবা রেঞ্জের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি বনবিভাগের রামসাই, লাটাগুড়ি, চালসা, ডায়ানা রেঞ্জের বিভিন্ন বিটের বনাঞ্চলে আগুন লেগেছে। বনকর্মীর পাশাপাশি ফায়ার ওয়াচার, অত্যাধুনিক ব্লোয়ার মেশিন–সহ দমকলকর্মীদের সাহায্য নেওয়া হলেও সমস্যা মিটছে না। কারণ একই সময়ে অনেকগুলো জায়গায় আগুন সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।
উত্তরবঙ্গের উত্তর মণ্ডল বিভাগের মুখ্য বনপাল এস কে মোলে জানাচ্ছেন, বনকর্মীর সংখ্যা সীমিত হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত চিহ্নিত করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্যাটেলাইট তথ্যের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বনকর্তাদের একাংশের স্পষ্ট বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে দাবানল লাগার পরিস্থিতি নেই। কিন্তু লোকালয় এবং রাস্তা সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় ইচ্ছাকৃত আগুন লাগানো হচ্ছে। পাতা সংগ্রহে গিয়ে কেউ কেউ পুরোনো ঘাসজমি পুড়িয়ে দিতে চান নতুন ঘাসের আশায়। কিছু লোকজন আবার স্রেফ মজার ছলে শুকনো পাতায় আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন।
গত দু'দিনে ডুয়ার্সের চাপড়ামাড়ি বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাতেও আগুনের বিভীষিকা ছড়িয়ে পরেছে। গত রবিবার থেকে আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবারেও চালসা রেঞ্জের পানঝোড়ার বড় একটি এলাকা পুড়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে দুপুর গড়ালেই জঙ্গলের বাইরে কখনও বেরিয়ে আসছে দলছুট দাঁতাল, কখনও শাবক–সহ হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে। এ দিকে হাতি দেখামাত্র ভিড় বাড়ছে মানুষের। অতি উৎসাহীদের দিকে বেশ কয়েকবার তেড়েও গিয়েছে হাতি। বনকর্মীরা আগুনের পাশাপাশি সেই ভিড়ও সামলাচ্ছেন। গোরুমারার এডিএফও রাজীব দে জানান, মানুষকে বারবার সচেতন করার পরেও হাতির আসা যাওয়ার পথে বিপদজনক ভাবে ভিড় বাড়ছে। তবে যারা জঙ্গলে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানাচ্ছে বন দপ্তর। আগুনের জেরে হাতির বেরিয়ে আসা নিয়ে সতর্ক করছেন জলপাইগুড়ি রেসকিউ টিমের কর্ণধার স্বরূপ মণ্ডলও।
পাশাপাশি ন্যাফের (নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন) মুখপাত্র অনিমেষ বসুর বক্তব্য, আগুন মোকাবিলায় বন দপ্তরের পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে হবে।